সুন্নত মেনে বিয়ে করলে শান্তি মেলে

মুহাম্মদ আবদুল হামিদ

ইসলামের আলো

ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পরম পুণ্যের কাজ। বিয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনে পূর্ণতা আসে। জীবনের এ অধ্যায় দুনিয়া ও

2025-12-27T10:14:45+00:00
2025-12-27T10:14:45+00:00
 
  শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলামের আলো
সুন্নত মেনে বিয়ে করলে শান্তি মেলে
মুহাম্মদ আবদুল হামিদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসলামে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পরম পুণ্যের কাজ। বিয়ের মাধ্যমে মানুষের জীবনে পূর্ণতা আসে। জীবনের এ অধ্যায় দুনিয়া ও আখেরাতে বয়ে আনে অফুরন্ত কল্যাণ। বিয়ে দ্বীন-দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে, যদি রাসুল (সা.)-এর অনুসৃত তরিকা অনুযায়ী হয়। দ্বীনের সীমা লঙ্ঘিত না হয়। ইসলামে বিয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও বিধিমালা রয়েছে। এই নিয়মকে উপেক্ষা করে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো বিয়ের কার্যাদি সমাধান করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, বরং রয়েছে সব ধরনের অকল্যাণ ও অশান্তি।

বিয়ে একটি সুন্নত আমল। সুতরাং বিয়ে সুন্নত তরিকায় করাই সমীচীন। কিন্তু আধুনিক সমাজে মুসলিম পরিবারে বিয়েশাদিতে কুসংস্কার ঢুকে গেছে। আধুনিকতার নামে চলছে অপচয়, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অবাধ্যতা। চলছে অকল্যাণ ও সুন্নতবহির্ভূত গর্হিত কর্মকাণ্ড। যা বিয়ের বরকত নষ্ট করে দেয়। বাগদান থেকে শুরু করে বিয়ের কিছু দিন পর পর্যন্ত যত রসুম-রেওয়াজ হয় সবই রাসুল (সা.)-এর অনুসৃত তরিকার পরিপন্থী। 

Advertisement
বরের মাথায় ফুলের মালা, হাতে রঙিন কাপড় পড়ানো, জিন-ভূতের ভয়ে কোমরে লোহার বেড়ি বাঁধা, গায়ে হলুদ, বরের হাতে মেহেদি দেওয়া, কোনো নারী কর্তৃক বরকে গোসল দেওয়া, একে অপরকে রং দেওয়া, নারীদের নৃত্য প্রদর্শন, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকাদের নাচ-গান, তামাশা, আতশবাজি, যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি। আর যারা সামান্য সম্পদশালী তারা গেট ধরে রকমারি বাতি জ্বালিয়ে রাস্তা থেকে বাড়ি পর্যন্ত সাজিয়ে জাহান্নামের আকৃতিদানের দৃশ্য দেখে মনে হয় যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন তা শুধু বিয়েশাদিতে লুটিয়ে দেওয়ার জন্য দান করেছেন। এ ছাড়া আর কোনো ব্যয় খাত ধার্য করেননি।

আমাদের সমাজ রাসুল (সা.)-এর কর্মনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। প্রচলিত বিয়েশাদির আনুষ্ঠানিকতা রাসুল (সা.)-এর আনুগত্যমূলক নয়। যা আছে তা একমাত্র ইজাব-কবুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলা যায়। রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর ইন্তিকালের পর হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর বিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সুসম্পন্ন হয়েছিল। অলিমার দাওয়াত রাসুল (সা.) মাত্র এক পেয়ালা দুধ দিয়েই সম্পন্ন করেছিলেন। রাসুল (সা.)-এর কলিজার টুকরা মেয়ে হজরত ফাতিমা (রা.)-এর বিয়ের সময় মাত্র এক প্লেট খেজুর উপস্থিত জনতার মাঝে বণ্টন করে আড়ম্বরপূর্ণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। 

বরের সঙ্গে আগত মেহমানদের আয়োজনে শত শত মানুষকে খাওয়ানোর জন্য মুরগির ফ্রাই, বিফ ভুনা আর রকমারি খাবারের আয়োজন করেননি। যদি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে কোনো বরকত নিহিত থাকত তা হলে রাসুল (সা.) কখনোই তা পরিত্যাগ করতেন না, বরং আড়ম্বরপূর্ণ ভোজানুষ্ঠান করতে পারতেন। তিনি এসব করেননি যা থেকে পরিষ্কার হয় যে, এসব অনুষ্ঠানের জন্য অপচয় করা, ধার অথবা হাত পেতে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যয় করা নিতান্ত অনর্থক এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিপন্থী।

সমাজে মানহানির ভয়ে অনেকে বছরের পর বছর পার হলেও বিয়ে করার সাহস করতে পারছে না। যারা করছে, তারা সুস্থ সাংস্কৃতিক জীবনযাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিয়ে করতে হচ্ছে ধার করে। টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, কাঠের ফার্নিচার, যৌতুক ইত্যাদি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় এবং বরের সঙ্গে আগত শত শত অতিথির মেহমানদারির ভোজানুষ্ঠান করতে অক্ষমতার কারণে অনেক পিতা বিয়ে দিতে পারছেন না তার বিয়ের উপযুক্ত মেয়েকে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান করতে পারছেন না তাই লোকসমাজে মানহানি ও সমালোচনার ভয়ে বিয়ের উপযুক্ত ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পারছেন না অনেক অভিভাবক। এই হচ্ছে আমাদের সমাজ।

যৌতুক নারীর প্রতি একটি অভিশাপ। মস্তবড় একটি জুলুম। যৌতুক দিতে না পারার কারণে বহু নারীর বিয়ে হয় না। বিয়ে হলেও এই যৌতুকের কারণেই অনেকের সংসার সুখের হয় না। লোভী, সংকীর্ণ মন-মানসিকতাসম্পন্ন স্বামীর ঘরে অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে হয় বহু নারীকে। অনেক নারীকে নরপিশাচ স্বামীর হাতে দিতে হয় জীবনও। ইসলাম নারীর আর্থিক সামর্থ্য দানের লক্ষ্যে এবং তার সম্ভ্রমকে সম্মান জানানোর জন্য ‘মোহর’ নির্ধারিত করে দিয়েছে। 

কিন্তু উল্টো দেখা যায়, ‘মোহর’-এর স্থলে যৌতুকের অবৈধ আবদারের অর্থ ও সম্পদ দিতে হয় কন্যাপক্ষকে। ইসলাম এ অন্যায়কে অনুমোদন করে না। এ ছাড়া বিয়ের দিন কনের বাড়িতে দলবেঁধে খাওয়ার অনুষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে নারীর অভিভাবকের ঘাড়ে যেমন চাপানো হয় শত শত মেহমানের ব্যয়ভার, তেমনি বরের পক্ষেও গাড়ি শোভাযাত্রা, ক্যামেরা ইত্যাদিসহ ব্যয়ের মাত্রা মোটেও কম নয়। 

এটা সম্পূর্ণ অনর্থক এবং অপচয়ও। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা অপচয় করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং অপচয়কারীদের শয়তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অপচয় না করার জন্য নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কিছুতেই অপচয় করো না। অবশ্যই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই; আর শয়তান হচ্ছে তার প্রতিপালকের বড় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৭)


সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   সুন্নত  বিয়ে  শান্তি  ইসলাম 


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: