সকালে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াতের সুফল

মাহদি হাসান

ইসলামের আলো

পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরার নাম ইয়াসিন। মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টির এক হাজার বছর আগে সুরা ইয়াসিন ও

2025-12-27T10:20:14+00:00
2025-12-27T10:20:14+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
সকালে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াতের সুফল
মাহদি হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ এএম   (ভিজিট : ১৮০)
পবিত্র কুরআন। ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরার নাম ইয়াসিন। মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টির এক হাজার বছর আগে সুরা ইয়াসিন ও সুরা ত্বহাকে তেলাওয়াত করেছেন। সুরা ইয়াসিন শুধু কুরআনেই নয়, বরং তাওরাত কিতাবেও এ সুরাটি ছিল। তখন এই সুরার নাম ছিল ‘মুনয়িমাহ’ বা কল্যাণ। 

এই সুরা পাঠকারী নিজের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ বয়ে আনে। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কুরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন’ (তিরমিজি)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘সুরা ইয়াসিন কুরআনের রুহ বা হৃৎপিণ্ড। 

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।’ তিরমিজি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, সুরা ইয়াসিন একবার পাঠ করলে দশবার কুরআন খতম করার নেকি হয় এবং পাঠকের সব গুনাহ মাফ হয়।

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার সারা দিনের সব প্রয়োজন পূর্ণ করে দেবেন এবং বিপদাপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।’ হাদিসে আরও বলা হয়েছে, ‘রাতে সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে নিষ্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠা যায় এবং আগের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।’ 

তাফসিরে রুহুল বয়ানে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, যে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার সব মকসুদ হাসিল হবে। যে ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন বেশি বেশি পড়ে, কেয়ামতের দিন এই সুরাই তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে। হজরত আবু যর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায় (মাজহারি)। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন অভাব-অনটনের সময় পাঠ করে তা হলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি ও রিজিকে বরকত লাভ হয় (মাজহারি)। ইয়াহইয়া ইবনে কাসির বলেন, যে ব্যক্তি সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে থাকবে। 

যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে (মাজহারি)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ইয়াসার (রা.) বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তায়ালা তার বিগত জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন’ (বায়হাকি আবু দাউদ)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (দারেমি)

হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, সুরা ইয়াসিনের বিশেষ কতগুলো নেয়ামত হলোÑ এই সুরা পাঠ করলে ক্ষুধা দূর হয়, পিপাসা দূর হয়, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ভয় ও বিপদ দূর হয় ইত্যাদি। এ ছাড়া সুরা ইয়াসিন পাঠ করার অসংখ্য ফজিলত রয়েছে যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি সুরা ইয়াসিন পাঠ করার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   সকাল  সুরা ইয়াসিন  তেলাওয়াত  সুফল 


Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: