তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমগুলো তার মৃত্যুর খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও তার মৃত্যুর খবর নিয়ে বেশ সরব থাকতে দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ গণমাধ্যমে তার ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার খবরে বেশ জোর দিত দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া তার তিনবারের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে মাত্র দুইবার ভারত সফরে গিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একবার ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এসময় ভারতে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে নরসিমা রাওয়ের এক প্রশ্নে মুখের ওপর জবাব দিতে সময় নেননি বেগম খালেদা জিয়া।
পুনম পান্ডের ‘ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ডমিস্টিক পলিটিক্স’ নামে একটি বইয়ের উদ্ধৃতি তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, খালেদা জিয়া তৎকালীন অখণ্ড ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটকালে তাকে পুতুল নামে ডাকা হতো। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বিয়ের পর তার নামের সাথে যুক্ত হয় জিয়া উপাধি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি ভারত সফরে গিয়েছিলেন মাত্র দুইবার। এরমধ্যে একবার ১৯৯২ সালে নয়াদিল্লি যান তিনি। ওই সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
পুনম পান্ডে তার বইয়ে লিখেছেন, খালেদা জিয়ার সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন অনেক বাংলাদেশি ভারতে অবৈধভাবে বাস করেন।
তখন খালেদা জিয়া তাকে মুখের ওপর জবাব দিয়ে বলেছিলেন, ভারতে বাঙ্গালিরাও বাংলা বোঝেন, বাংলায় কথা বলেন— যার অর্থ এই নয় যে তারা বাংলাদেশি।
এদিকে বিএনপির প্রেস উইং ও ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারত বর্ষের জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির ছোট্ট শহরে বেগম জিয়ার জন্ম। তার নাম রাখা হয় ‘শান্তি’। পরে মেজো বোন সেলিমা ইসলাম তার নাম রাখেন ‘পুতুল’। পরবর্তী পর্যায়ে তার পরিবার দিনাজপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। তাদের আদি বাড়ি ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে।
১৯৬০ সালে খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন। কলেজে পড়ার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। ওই সময় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ সময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলাম সহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসকে/