মালয়েশিয়ার শতবর্ষী রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ঘরের মধ্যে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। পরে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদিও আঘাত পেয়েও তিনি জ্ঞান হারাননি। তবে বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা এএফপিকে তার এক সহযোগী এ তথ্য দিয়েছেন। মূলত শত বছর বয়স, দীর্ঘ অসুস্থতা আর দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগের ইতিহাস- সব মিলেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত জুলাইয়ে ১০০ বছর বয়স হওয়া উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি পিকনিকে জ্ঞান হারান তিনি। ওই সময় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সুফি ইউসুফ নামে মাহাথিরের ওই সহযোগী এএফপিকে বলেছেন, বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তাকে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণের জন্য নেয়া হয়েছে। তার ভাষায়, তার জ্ঞান রয়েছে। শারীরিক পরিস্থিতি এখনই বলা কঠিন। শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হবে কি না এটা বলার মতো সময় এখনও হয়নি।
বারান্দার এক অংশ থেকে শোবার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি পড়ে যান বলে জানান সুফি। তবে বর্তমানে মাহাথিরের অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। হার্টের সমস্যার কারণে আগেই মাহাথিরের হার্টের বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল।
এদিকে বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, পড়ে যাওয়ার পর মাহাথির মোহাম্মদের নিতম্বে ভাঙন (হিপে ফ্র্যাকচার) হয়েছে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিষয়টি নিশ্চিত করতে রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটেই তাকে রাখা হয়েছে।
সুফি ইউসুফ জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ির ভেতরেই পড়ে যান। দিনের শেষভাগে মেডিকেল টিমের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার কথা রয়েছে। গত জুলাইয়েও ক্লান্তি অনুভব করলে তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ায় বেশ সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তিনি তার স্বপ্ন ও নেতৃত্বের জন্য সমাদৃত। মালয়েশিয়াকে কয়েক দশক নেতৃত্ব দিয়ে উন্নতির দিকে নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে ধরে রেখেছেন নিজের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব। তিনি ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
দ্বিতীয় দফায় তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন তার বয়স ছিল ৯৪ বছর। এতে করে ওই সময় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ নির্বাচিত নেতায় পরিণত হন।
/ইউএমএইচ