বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের প্রধান দূতাবাস ঢাকায়। এ ছাড়া, সহকারী হাইকমিশনগুলো রয়েছে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। সবগুলো মিশন থেকেই কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দফতর যথারীতি খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তবে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেশটিতে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন তারা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ পদক্ষেপ নিল ভারত।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ‘উগ্রপন্থি ও চরমপন্থি’ গোষ্ঠীর হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতীয় কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত কিছুদিন ধরেই বিবেচনাধীন ছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, কূটনীতিকদের পরিবার কবে নাগাদ বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের সংখ্যা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্যানুসারে, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে থাকা পাকিস্তান বর্তমানে ‘নো চিলড্রেন’ পোস্টিং হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে কর্মকর্তাদের স্ত্রীরা থাকতে পারলেও সন্তানদের জন্য অনুমতি নেই।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস ও পিটিআই