মশার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসীর জীবন। গত বছরেও ঢাকাবাসীর আতঙ্কের নাম ছিল মশা। বর্ষা মৌসুম শেষে শীতকালেও মশার উপদ্রব কমেনি। চলতি মাসের প্রথমার্ধের পর থেকে আবারও রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে মশার দৌরাত্ম্য। এরই মধ্যে নতুন করে এডিসের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে কিউলেক্স মশা। ফলে নগরীতে নতুন করে আবারও দেখা দিয়েছে মশা আতঙ্ক। অথচ রাজধানী ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দিন দিন মশার উপদ্রব বাড়লেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) যেন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
দুই সিটি করপোরেশন বলছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা সিটি করপোরেশনেরও রয়েছে। তবে সম্প্রতি এডিসের সঙ্গে আরেকটি নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে- কিউলেক্স মশা। তবে সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। যদিও শীত মৌসুম ও জনবল সংকট থাকায় কিছুটা ধীরগতি ছিল মশক নিয়ন্ত্রণে। এসব সংকটের পরেও সংস্থা দুটি বসে নেই। তবে সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো- আগামী ১ মার্চ ল্যাবে প্রাথমিকভাবে মশার সার্ভের জন্য কাজ শুরু হবে।
এখান থেকে মশার প্রজননক্ষমতা কোথায় বেশি, কোথায় কম তা চিহ্নিত করা হবে। এগুলো চিহ্নিত হওয়ার পরেই মূলত ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইডিং ও বিকালে ফগিং করা হচ্ছে। জলাশয়, খাল ও বদ্ধ জায়গা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সেখান থেকে পলিথিন, আবর্জনা ও কচুরিপানা সরানো হচ্ছে। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক মনিটরিং কার্যক্রম চালমান রয়েছে। এ ছাড়া এডিস ও কিউলেক্স মশার জন্য একই ধরনের ওষুধ ছিটানো হবে।
ডিএসসিসি বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১০টি অঞ্চলের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ড। এখানে জনবল রয়েছে ১ হাজার ৫০ জন। এই মশক নিধনে ব্যবহার করা হয়, হাতে চালিত মেশিন ৫৭৫টি, ফগার মেশিন ৫২৫টি ও হুইলব্যারো মেশিন ৩৯টি। প্রতিদিন সকালে লার্ভিসাইড ৩৪ দশমিক ৭৫ লিটার ও বিকালে অ্যাডাল্টিসাই ৪৫ দশমিক ৭০ লিটার কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি অঞ্চলে ১ জন পরিদর্শক, প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন মশককর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সকালে লার্ভিসাইডিংয়ে ৭ ও বিকালে অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য ৬ জন মশককর্মী রয়েছেন।
ডিএসসিসি বলছে, গত বছরের এপ্রিলে ডিএসসিসির এডিস মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয় ও মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কীটনাশক নির্বাচন ও বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি, মানসম্পন্ন কীটনাশক এবং কীটনাশকের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও ফেসবুকে সব কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। এমনকি জনসচেতনতায় হ্যান্ডমাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডিএসসিসির এলাকার মসজিদগুলোতে বয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইমাম-খতিবদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলছে, মশা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অফিস ব্যবস্থাপনা, পুরো কাজের জন্য অল্পসংখ্যক জনবল রয়েছে। এই সীমিত লোকবল এবং যতটুকু সম্পদ আছে, তা দিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন। ফলে মশক নিধন কার্যক্রমে লোকবলের স্বল্পতা একটি বড় বাধা। তাই শুধু ডিএনসিসির একার পক্ষে পুরোপুরি মশক নিধন করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতি হাজার বাসিন্দার জন্য ২ দশমিক ৩ জন কর্মীর প্রয়োজন কিন্তু ডিএনসিসির রয়েছে প্রতি ১১ হাজারে একজন কর্মী, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীসহ সারা দেশেই এডিস মশার উপদ্রব যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ভয়ংকর রূপ নিতে পারে কিউলেক্স মশা, যা এখন নগরবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স প্রজাতির। গত বছরজুড়ে প্রতিদিনই কোনো কোনো এলাকায় এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মশার কামড়ে মৃত্যু যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। দুই সিটি করপোরেশনের যেন ঘুম এখনও ভাঙেনি। শীত মৌসুম শেষ হয়েছে। এখন গরম মৌসুম শুরু হয়েছে কিন্তু এই দুই সিটি করপোরেশন এখনও নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তাই ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই এডিস মশা একটি আতঙ্কের নাম। এডিস ও কিউলেক্স মশার জন্য একই ধরনের ওষুধ ছিটানো ঠিক কি না, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
গত বছরটি প্রতিদিনই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। এমনকি মৃত্যুও প্রায় প্রতিদিনই ছিল। সংগত কারণে, এখনই যদি দুই সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ না করে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। সম্প্রতি আবার কিউলেক্স মশার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই মশা কিন্তু এডিস মশার চেয়েও ভয়ংকর। মার্চ থেকেই ভয়ংকর রূপ নিতে পারে এডিস ও কিউলেক্স মশা। যেটি নগরবাসীর জন্য কিন্তু খুবই আতঙ্কের একটা বিষয়। ফলে ডেঙ্গুবাহী এডিসের পাশাপাশি কিউলেক্স মশার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই নেওয়া উচিত। সেটি না হলে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। সত্যিকার অর্থে মশা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কিউলেক্স ও এডিস মশার উপদ্রব মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তারা বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো গবেষণা। মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ছিটানো হলে তা কার্যকর হচ্ছে কি না তা নিয়েও গবেষণা নেই। শুধু তাই নয়, দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণে তাদের পর্যাপ্ত মাঠপর্যায়ে কর্মী নেই বলে অভিযোগ করে যাচ্ছে। কিন্তু যদি তাদের মাঠপর্যায়ে কর্মী নেই যে, অভিযোগ করছেন, এটি মূলত তাদের দায়িত্ববোধ থেকে এড়িয়ে যাওয়া। এই অজুহাত দিয়ে অনেক ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত নিয়মিত ফগিং বা লার্ভিসাইডিং চালানো হয় না। আর যেসব কর্মী রয়েছেন, তাদের কাজও সঠিকভাবে তদারকি করা হয় না।
মশার জীবনচক্রে চারটি ধাপ রয়েছে- প্রথমে ডিম, তারপর লার্ভা, পরে পিউপা, আর শেষে পূর্ণাঙ্গ মশা। এই পূর্ণাঙ্গ মশার কামড়েই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। অথচ দেশে মশা নিধন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির। শুধু দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। বাড়িতে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, ড্রাম, এসি বা ফ্রিজের ট্রে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। নগরবাসী সচেতন না হলে দুই করপোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য শুধু বর্ষাতেই নয়, শীত মৌসুমেও এসি, ফ্রিজ, ফুলের টব, ড্রাম, পলিথিন, আবর্জনা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, পরিবেশগত কারণে এডিস মশার চরিত্র বদলেছে, ডেঙ্গুর ধরনেও পরিবর্তন এসেছে কিন্তু সে অনুযায়ী পরিকল্পনা না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা তা সম্পূর্ণ গতানুগতিক। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণ থামছে না। মৌসুমি বৃষ্টির কারণে শহরের নানা স্থানে পানি জমছে। এই জমা পানি থেকে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে তৈরি হচ্ছে মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ। তাই বর্ষাতেই নয়, শীত মৌসুমেও এসি, ফ্রিজ, ফুলের টব, ড্রাম, জলাশয়, খাল, বদ্ধ জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতেও জোর দেওয়া আরও প্রয়োজন। কার্যকর ওষুধও যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। গবেষণা প্রয়োজন বাংলাদেশের এডিস মশার জন্য কোন ধরনের ওষুধ প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, পরিবেশগত কারণে এডিস মশার চরিত্র বদলেছে, ডেঙ্গুর ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পরিকল্পনা না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা তা সম্পূর্ণ গতানুগতিক। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে রাজধানীবাসীকে রেহাই দেওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, কিউলেক্স মশার প্রজনন বেড়ে গেছে, যা আরেকটি আতঙ্কের নাম। শীত মৌসুম শেষ হয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোর জন্য দুই সিটি করপোরেশনকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে রাজধানীবাসীকে। আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে তৈরি হচ্ছে মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ। তাই এসি, ফ্রিজ, ফুলের টব, ড্রাম, জলাশয়, খাল, বদ্ধ জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতেও জোর দেওয়া আরও প্রয়োজন। কার্যকর ওষুধও যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। গবেষণা প্রয়োজন বাংলাদেশের এডিস ও কিউলেক্স মশার জন্য কোন ধরনের ওষুধ প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়, এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকটে রূপ নিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স প্রজাতির। ফলে এডিসের পাশাপাশি কিউলেক্স মশা বৃদ্ধি নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তবে নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া ঢাকাকে মশামুক্ত করা অসম্ভব। বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, অব্যবহৃত পাত্র, খোলা পানির ট্যাঙ্ক এসব ছোট অবহেলাই বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়। রাজধানীতে কিউলেক্স মশা কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। অন্যদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গতানুগতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, জলাশয় ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জরুরি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন সময়ের আলোকে বলেন, মশক নিধনে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীত মৌসুম শেষ হয়েছে। গরম মৌসুম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এডিস মশার সঙ্গে আরেকটি মশা নগরীর জন্য দুশ্চিন্তার। সেটি হলো কিউলেক্স মশা। ইতিমধ্যে ডিএসসিসি মশক নিধনের পদক্ষেপ বাড়িয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে প্রাথমকিভাবে ল্যাবে সার্ভে করবে। কোথায় মশার উপদ্রব বেশি। প্রজনন বেশি হচ্ছে। কেন হচ্ছে এসব গবেষণা করা হবে। এই গবেষণার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এই ল্যাব ছোট আকারে শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এর ব্যাপকতা বাড়ানো হবে। আমাদের মাঠপর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণের কোনো এলাকায় যদি মশা বেশি দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ডিএনসিসির মশককর্মীদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) যুক্ত রয়েছে। তাদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীত মৌসুমে মশা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে মার্চ মাস থেকেই এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। সর্বশেষ ডিএনসিসির মনিটরিংব্যবস্থা বাড়ানোর ফলে ডেঙ্গু রোগী কম ছিল। সম্প্রতি কিউলেক্স মশার বংশবিস্তার বাড়তে শুরু করেছে, এটি বিবেচনায় রেখে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো সারা বছর ধরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। তবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে লোকবলের স্বল্পতা রয়েছে। শুধু কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, কারণ মশার বংশবৃদ্ধি হয় প্রায়ই ব্যক্তিগত বাড়ির ছাদ, কিচেনের নিচে বা দুটি বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে, যেখানে কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই। ফলে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।
সময়ের আলো/আআ