রোজার আগের দিন পাল্টে গেল বাজারের চিত্র

এসএম আলমগীর

জাতীয়

রোজার আগের দিন বুধবার পাল্টে গেল ভোগ্যপণ্যের বাজারচিত্র। অনেক পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে বেশ খানিকটা। বিশেষ করে ইফতারকেন্দ্রিক

2026-02-19T01:30:55+00:00
2026-02-19T02:03:52+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
চাহিদার চাপে বাড়ল পণ্যমূল্য
রোজার আগের দিন পাল্টে গেল বাজারের চিত্র
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ এএম  আপডেট: ১৯.০২.২০২৬ ২:০৩ এএম  (ভিজিট : ১৯৪)
সংগৃহীত ছবি
রোজার আগের দিন বুধবার পাল্টে গেল ভোগ্যপণ্যের বাজারচিত্র। অনেক পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে বেশ খানিকটা। বিশেষ করে ইফতারকেন্দ্রিক পণ্যের দাম বেড়েছে বেশি। যেমন ৬০-৭০ টাকা হালির লেবুর দাম ঠেকেছে ১৪০-১৫০ টাকায়, ৬০ টাকার বেগুনের কেজি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা, ১৮০-২২০ টাকার কাঁচামরিচের কেজি ২৪০-২৫০ টাকায় ঠেকেছে। এভাবে আরও কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গতকাল। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাজারে কোনো পণ্যেরই কমতি নেই, তবুও দাম বেড়েছে মূলত হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির জন্য। রোজার আগের দিন বাজারে ক্রেতারা একসঙ্গে বেশি করে পণ্য কেনায় বাজারে চাপ বাড়ে। ক্রেতা চাহিদার সুযোগে ব্যবসায়ীরা যে যার ইচ্ছে মতো দামে পণ্য বিক্রি করে ক্রেতার পকেট কেটেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা  বলছেন, এবার বাজারে কোনো পণ্যের সরবরাহে কোনো কমতি না থাকার পরও এভাবে দাম বৃদ্ধি কোনোভাবে যুক্তিসংগত নয়। ব্যবসায়ীরা সেই আগের মতোই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট কাটা শুরু করেছে। 

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, রমজানের বাজারে অস্থিরতার মূল কারণ তিনটি- অপরিকল্পিত আমদানি, দুর্বল তদারকি এবং কৃত্রিম সংকটের সংস্কৃতি। প্রতি বছর একই চিত্র দেখা যায়। রোজার আগেই সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বলে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ান আর ভোক্তারা আতঙ্কে বেশি করে কিনতে শুরু করে। ফলে বাস্তবে সংকট না থাকলেও বাজারে চাপ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, পাইকারি থেকে খুচরা- সব স্তরে নিয়মিত নজরদারি থাকতে হবে। জরিমানা যদি সামান্য হয়, বড় ব্যবসায়ীরা তা খরচ হিসেবেই ধরে নেন। পুনরাবৃত্তির অপরাধে লাইসেন্স স্থগিত, বড় অঙ্কের জরিমানা বা মামলা- এসব দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মনে রাখতে হবে, রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে অতিরিক্ত মুনাফা নয়, বরং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সামাজিক দায়িত্ব।

ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে পায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দামে ঊর্ধ্বগতি। বিশেষত ইফতারের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য-ছোলা, চিনি, খেজুর, শসা, লেবু ও ডালের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্যাকেটজাত চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; বড় আকারের লেবুর দাম আরও বেশি। বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলা ও রান্নার উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মজুদ প্রবণতার কারণে খুচরা দামে চাপ তৈরি হয়।

অন্যদিকে রোজায় প্রয়োজনীয় সবজি জাতীয় তিন পণ্য- লেবু, শসা ও বেগুনের দাম এরই মধ্যে ‘সেষ্ণুরি’ ছুঁয়েছে। শসা ও বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। রোজা উপলক্ষে বাজারে আসা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৬৫ থেকে ৯০ টাকায়। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। এর মধ্যে দেশি শসা ১৪০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে শসার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। খিরাই বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে রোজা উপলক্ষে খেজুরের চাহিদাও বেড়েছে। বাজারে খেজুর বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা কেজিতে। ভালো মানের খেজুরের দাম প্রকারভেদে ২ হাজার টাকারও বেশি। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া ৫০০ থেকে ৭০০ এবং ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা দরের খেজুরের ক্রেতা বেশি। বাজারে নতুন স্ট্রবেরি উঠেছে। তবে দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমানে স্ট্রবেরি কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সাধারণত এ ফলের দাম থাকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজিতে, বাঙ্গি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পিস এবং পেয়ারা ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যান্য ফলের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি রয়েছে।
কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা পাল্লায়। এতে কেজিপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা। তবে অলিগলি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। রসুন পাইকারিতে ২০০ টাকা এবং আদা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা পাল্লায়।

কারওয়ান বাজারের ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, রোজা এলেই সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। লেবু, শসা ও বেগুনের যে দাম, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের গলা কাটা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় এসব জিনিস কিনতেই কষ্ট হচ্ছে। রোজাকে পুঁজি করে এভাবে দাম বাড়ানো অন্যায়, এর শাস্তি হওয়া উচিত।

এদিকে রমজান মাস শুরুর আগের দিনই রাজধানীর বাজারে দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলের দাম বেড়ে গেছে। বিদেশি আপেল, মাল্টার মতো ফলের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৪০-৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি ফল যেমন কলা ও বরইয়ের দাম বেড়েছে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত। দেশি কলা প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। সাগর কলা এবং সবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়, বাংলা কলা ১০০-১২০ টাকায়। এ ছাড়া পেয়ারার দাম ১০০-১৫০ টাকা, আনারস ৪০-৬০ টাকা এবং মৌসুমি বরই ১২০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁপে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।  বিদেশি ফলের মধ্যে রোজার সময়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। মাল্টার দাম কেজিপ্রতি বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, আপেলের দাম ৩৬০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। খেজুরের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০০  থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে নিম্ন মানের খেজুরের কেজি ২৫০ টাকা, আর ভালো মানের খেজুরের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর মাঝারি মানের খেজুরের কেজি ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার চাহিদা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের প্রভাবে সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন খরচও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ার কারণে তারা চাপের মুখে পড়েছেন। 

কারওয়ান বাজারের এক ফল বিক্রেতা বলেন, রোজার সময় প্রচুর ক্রেতা আসে, কিন্তু পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তাই ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিয়ে ফল কিনতে হয়।

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, যেখানে রোজার কারণে ফলের চাহিদা বেড়েছে, সে অবস্থায় নির্বাচনের ফলে সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। অন্যদিকে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও আছে।

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   রোজা  বাজার  দাম  বৃদ্ধি  পণ্য 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: