সংগৃহীত ছবিনতুন সরকারের সামনে যে কয়েকটি বিষয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে তার মধ্যে অন্যতম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। আর এ জন্য পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল হবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। নতুন সরকার তাদের পছন্দ অনুযায়ী শীর্ষ পদে নিয়োগ, পদায়ন এবং পরিবর্তন করবে। তাই পুলিশের অন্দরমহলে এখন ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনা- কে হচ্ছেন পরবর্তী আইজিপি, কে হচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার। এ ক্ষেত্রে প্রায় এক ডজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আসছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, পুলিশ সদর দফতরে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত পাঁচজনের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। তারা হলেন- অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিক অ্যান্ড অ্যাসেট একুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অতিরিক্ত আইজিপি (এইচ আর এম) সরদার নুরুল আমিন।
এ ছাড়া পুলিশ হেড কোয়ার্টারের বাইরে আইজিপি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আছে তারা হলেন- র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবে।
এ ছাড়া যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) দেলোয়ার হোসেন মিঞা। আইজিপি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখের নামও আলোচনায় রয়েছে।
আলোচনায় আছেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (কো-অর্ডিনেটর, গ্রেড-১) আনসার উদ্দিন খান পাঠানও।
আরও আলোচনায় আছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং পুলিশের স্পেশাল বিভাগের (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল, যিনি বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। এই দুজনের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় থাকলেও বিশেষ কারণে তাদের দুজনের আইজিপি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে আইজিপির তুলনায় ডিএমপি কমিশনার হওয়ার তালিকাটা ততটা দীর্ঘ নয়। ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় আছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিবিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আলোচনায় আছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদও।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, আইজিপি বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তি অনুযায়ী তার মেয়াদ আছে আরও প্রায় ৯ মাস।
অন্যদিকে বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর।
নতুন সরকারের সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সম্ভাব্য আন্দোলন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক তৎপরতা- সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা জরুরি। তাই শুধু পদায়ন নয়, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নটিও এখানে বড় হয়ে উঠছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, পেশাগত দক্ষতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে পুলিশের নতুন নেতৃত্বের চূড়ান্ত তালিকা।
সময়ের আলো/আআ