প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৭ এএম
চা শ্রমিকের তোপের মুখে ম্যানেজার, উত্তেজনায় গাড়ি ভাঙচুরহবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করাকে কেন্দ্র করে তোপের মুখে পড়েন বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন।
সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে বাগানের ১৮ নম্বর সেকশনে বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটনের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাগান এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাগান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোম্পানির একটি জলাশয় থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বাগান ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানান, দুই দিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি কোম্পানির মালিকানাধীন জলাশয় থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তার দাবি, সোমবার সকালে কারখানার সামনে কিছু লোক জড়ো হয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকে। তবে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দেন। ম্যানেজার আরও জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি ১৮ নম্বর সেকশনে কাজ পরিদর্শনে গেলে একদল উশৃঙ্খল যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে নারী শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয় এবং তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তার ব্যবহৃত গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটির সামনের গ্লাস ও বডির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, বাগানের সাবেক শ্রমিক নেতা স্বরজিত ফাশি ভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, কয়েক দিন আগে সার্বজনীনভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় ম্যানেজার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অপমান করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে সোমবার ম্যানেজারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে আরেক শ্রমিক নেতা হেমন্ত পান গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পৃথকভাবে দুপুর দুইটার দিকে একটি মিছিল করেন। তিনি বলেন, যারা বাগানে অশান্তি সৃষ্টি করে ভাঙচুরের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
সময়ের আলো/জোই