২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনায় ৩০-এর বেশি আসামি করা হয়েছে। সরাসরি গণভবন থেকে এই হত্যার নির্দেশ আসে। এ জন্য শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরপর নাম এসেছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের।
এছাড়া আসামিদের মধ্যে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকার, শাহরিয়ার কবীর, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খোন্দকার, পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র্যাবের ডিজি মোখলেস, জিয়াউল আহসান ও পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাস্টারপ্ল্যান করে ঢাকায় আনা হয় হেফাজতের নেতাকর্মীদের। ভয় দেখানোর জন্য সারাদিন তাদের ত্যক্ত-বিরক্ত করা হয়। এরপর তাদের হেয় করতে ভাঙচুরের খবর গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১০টার পর প্রাথমিকভাবে শাপলা চত্বরে অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। এমন নির্দেশনা পেয়ে রাত ১টা ৪৫ এ লাইট নিভিয়ে একদিক খোলা রেখে সমন্বিতভাবে ‘ক্র্যাকডাউনে’ যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ওই ঘটনায় মোট কতজন মারা গেছে তার তদন্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। শুধু ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মৃতদের নিয়ে ‘অধিকারের’ রিপোর্টকে বেস করে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল, ধর্মের অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এরপর সারা দেশ থেকে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন রাজধানীর চারটি পয়েন্টে। একদিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্যদিকে রাজধানীর প্রত্যেকটি পয়েন্ট দাঁড়িয়ে থেকে সমাবেশে যেতে বাধা দেয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে দিনভর হেফাজতের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চলে। পরবর্তী সময়ে রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। যদিও বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্তের আবেদন জানায় হেফাজতে ইসলাম। জাতীয় নির্বাচনের আগেই যার তদন্ত শেষ করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আলোচিত এ মামলায় গ্রেফতার চার আসামি হলেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।
সময়ের আলো/আআ