বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে বাঙালির আবেগ, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানচর্চার সবচেয়ে বড় উৎসব- অমর একুশে বইমেলা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। সব মিলিয়ে ইউনিট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০১৮টি। গত বছর ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও ইউনিট ছিল ১,০৮৪টি- সে তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমলেও বিন্যাসে আনা হয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিকল্পনা।
মেলার উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। এখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিন স্টল পেয়েছে, যা তরুণ লেখক ও বিকল্প ধারার প্রকাশনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে।
শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা ‘শিশুচত্বর’-এ রয়েছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন ছোটদের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
মেলার সার্বিক বিন্যাস আগের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন করে মন্দির গেটের কাছে বাহিরপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ।
আরও পড়ুন
খাবারের স্টলগুলো রাখা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে। পাশাপাশি নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মেলায় বাংলা একাডেমি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নির্ধারিত কমিশন হার অনুসরণ করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার জন্য মেলার দুই অংশেই আলাদা স্টল থাকবে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
আজ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ছাড়া) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
সব মিলিয়ে, বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়- এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল বাংলাদেশের এক বহুমাত্রিক মিলনমেলা।
এএডি/