হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে, গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরমান আলী আসামি রিয়াদসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। অপর আসামিরা হলেন-প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার। পরবর্তীতে আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।
এদিন শুনানি চলাকালে আসামিদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য শুনানি করেন। অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিল পূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে আসামি রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামিদের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে, গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায় আসামি রাজ্জাক গ্রেফতার হয়েছিলেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর কক্ষে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে (নির্জন) সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য বলেন।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় রাজ্জাকের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান। এরপর রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুখে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। তখন তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা নির্জনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয়। এ অভিযোগে নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন।
সময়ের আলো/এনএ