নিরাপত্তা ও সমতার লড়াই

এম মামুন হোসেন

জাতীয়

বাংলাদেশের নারীরা কোথায় নিরাপদ? ঘরে-বাইরে, পরিবারে, লোকালয়ে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা এখন বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন। এই নিরাপত্তাহীনতার অবসান কীভাবে ঘটবে,

2026-03-08T03:29:30+00:00
2026-03-08T03:29:30+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ
নিরাপত্তা ও সমতার লড়াই
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৯ এএম 
পোশাক শিল্পে কর্মরত অধিকাংশই নারী শ্রমিক। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের নারীরা কোথায় নিরাপদ? ঘরে-বাইরে, পরিবারে, লোকালয়ে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা এখন বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন। এই নিরাপত্তাহীনতার অবসান কীভাবে ঘটবে, এ প্রশ্নের জবাব কেউ জানে না। নারীরা নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সমাজে একদিকে উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটলেও নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও শোষণ অব্যাহত রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে নারীরা প্রায়ই বৈষম্য ও নির্যাতনের সম্মুখীন হন। বিশেষ করে নারীর প্রতি মব ভায়োলেন্স, সহিংসতা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিয়ে এবং পারিবারিক নির্যাতন আজও আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত। এমন পরিস্থিতিতে ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ রোববার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

দেশে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও নিরাপত্তা ও সমঅধিকার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ঘরে-বাইরে, পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে এবং জনপরিসরে নারীরা প্রায়ই সহিংসতা, বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে যৌন হয়রানি, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক নির্যাতন এবং মব সহিংসতার মতো ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মহিলা পরিষদের নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। সংগঠনটি বলছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়। অনেক ঘটনা আইনের আওতায় আসে না কিংবা সামাজিক ভয়ের কারণে চাপা পড়ে থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা এবং ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়ন, ২ জন উত্ত্যক্তকরণ এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন নারী। এসিডদগ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন একজন করে।

নারী অধিকার সংগঠনগুলোর বলছে, সমাজে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা পুরোপুরি কমেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে নারীর নিরাপত্তা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান ও সমতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস তাই শুধু উদযাপনের দিন নয়; বরং নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা নানান কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক ‘অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অন্যতম।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অদম্য নারী পুরস্কারের আওতায় বিশেষ অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতি প্রদান, দেশজুড়ে নারী অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সকল তফসিলি ব্যাংকে নারী দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। এ বছর বিশ্বব্যাপী ‘গিভ টু গেইন’ (দিয়ে অর্জন) প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে, যা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে তাদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতি বছরের মতো এবারও আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এবারও একজন কৃতী নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এবার এ সম্মাননা পাচ্ছেন সাংবাদিক মমতাজ বানু।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। সকাল ১০টায় র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটির উদযাপন করবে। ডিআরইউয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র মাহে রমজানের কারণে নারী দিবসের অবশিষ্ট অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে উদযাপন করা হবে।

বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ এ দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস।


  বিষয়:   আন্তর্জাতিক নারী দিবস  উদযাপন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: