ভোট চাইতে গিয়ে মানুষকে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে দলটি। আর এখন শুরু হয়েছে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথচলা। ধাপে ধাপে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন হচ্ছে আজ। নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ১৫টি ওয়ার্ডে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
এদিকে এই উদ্যোগ ঘিরে মানুষের মনে সঞ্চার হয়েছে আশার আলোর, তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। অনেকের কাছে এটি যেন এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের সূচনা।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ও চমকপ্রদ নানা পদক্ষেপে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এক নতুন দিগন্তের পথে। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর, জনতার স্বপ্ন পূরণের এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জনতার প্রত্যাশা ও স্বপ্ন সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা। এ যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ইতিমধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
নতুন সরকারের শুরু থেকেই ক্ষমতার চর্চায় ভিন্নধর্মী বার্তা দেখা যাচ্ছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় বিশাল গাড়িবহর, দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ঘটনা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক আইন মেনে চলাচল করছেন এবং নিজেকে জনগণের কাতারের একজন হিসেবে তুলে ধরছেন, যা অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের সিদ্ধান্তও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার বলছে, সংসদে ভারসাম্য রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা এসেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প, যা সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালিসামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল), রেমিট্যান্সপ্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। পাইলট পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের (আলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি) ৮ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রসাশক মো. শফিকুল ইসলাম।
রাজবাড়ী পাংশার হাবাসপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম ও রাজবাড়ী-২-এর এমপি হারুন অর রশিদ উপস্থিত থাকবেন। পতেঙ্গার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বা তার মনোনীত ব্যক্তি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্জারামপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বান্দরবানের লামার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, খুলনা খালিশপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রসাশক নজরুল ইসলম মঞ্জু, ভোলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, সুনামগঞ্জের কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিমন্ত্রী শফীকুল আলম, বগুড়ার শখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসক, নাটোরের লালপুরের ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, ঠাকুরগাঁও রহমানপুর ইউনিয়েনের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দিনাজপুরের জয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান সে ক্ষেত্রে সেই সব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যোগ্য উপকারভোগীরা পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতাপ্রাপ্ত হবেন এবং পরে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হতে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতাপ্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না।
এ ছাড়া পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন- গাড়ি, এসি) থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে ওই পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
তথ্য সংগ্রহকালে উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে কোনো প্রকার বিলম্ব, ভুল অ্যাকাউন্টে জমা বা কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সরাসরি সরকার থেকে ভাতাপ্রাপ্ত হবেন।
মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুন-২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২০টি খাল খনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সে বার্তাই বহন করে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে, যা ধারাবাহিকতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যয় সংকোচনেও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার আয়োজন পরিহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সরল জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বড় গাড়িবহর ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা কমানো, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এসব পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক।
সময়ের আলোকে তিনি বলেন, এর অন্যতম দিক হলো জনসম্পৃক্ততার বৃদ্ধি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এখন আগের তুলনায় বেশি করে জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং পাশে থাকার চেষ্টা করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও অনেক নেতা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন। সরকার শুরুতেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। এ প্রবণতা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এটি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকলে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবর্তন আনতে পারে।
সময়ের আলো/এআর