১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমাদের চোখে ইরান যেন ‘অবাধ্য রাষ্ট্র’। মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরাইলে পাল্টা হামলা, হিজবুল্লাহকে মদদ সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সন্দেহ, শঙ্কা আর শত্রুতার দেয়াল। কিন্তু এই শত্রুতার বীজ কি সত্যিই বিপ্লব পরবর্তী? নাকি তারও অনেক আগেই বপন হয়েছিল শত্রুতার বীজ?
এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কিন্তু বর্তমানে এই যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পশ্চিমারা কীভাবে এবং কেন ইরানের শত্রুতে পরিণত হলো? কীভাবে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ইরানের আবির্ভাব হলো?
পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ইরানের যে শক্তিশালী অবস্থান তার পেছনে রয়েছে বিশাল এক ইতিহাস। দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর ধরে চলমান রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আধুনিক ইরানের আবির্ভাব হয়েছিল যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তার নাম ‘ইরানিয়ান রেভল্যুশন’। এই ইসলামিক বিপ্লব পরিবর্তন করে দিয়েছিল ইরানের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো। ইরানের এই ইসলামিক বিপ্লবকে ফরাসি ও বলশেভিক বিপ্লবের পর ইতিহাসের তৃতীয় মহান বিপ্লব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৩৫ সালের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইরান পরিচিত ছিল ‘পারস্য’ নামে। যদিও ‘ইরান’ শব্দটির ব্যবহার স্থানীয়ভাবে বহু আগে থেকেই হয়ে আসছিল। এই ইরান বা পারস্যকে দুই শতকের অধিক সময় ধরে শাসন করেছিল সাফাভিদ রাজবংশ। এই রাজবংশের প্রথম রাজা ছিলেন ইসমাইল প্রথম।
তিনি দ্বাদশী শিয়া মতবাদকে ইরানের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সাফাভিদের পরে ইরানকে শাসন করে কাজার রাজবংশ। কাজার রাজবংশ ১৭৮৫ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ইরানকে শাসন করেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর এই কাজার রাজবংশের আমলেই ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে অল্পকিছু তেলের খনি আবিষ্কার হয়। তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই তেলের খনিগুলো দখল করার জন্য ব্রিটিশ, ফ্রান্স, আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এমনকি তেলের বাজার দখলের জন্য ব্রিটিশরা প্রতিষ্ঠা করে ‘অ্যাংলো ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’, যা পরবর্তীতে ‘ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম’ নাম ধারণ করে।
১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সমর্থনে কাজার রাজবংশের বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান হয়। এরপর ক্ষমতায় বসানো হয় ব্রিটিশ অনুগত রেজা শাহ পাহলভিকে। এই রেজা শাহ দেশের নাম পারস্য থেকে ইরানে পরিবর্তন করেন। রেজা শাহ পশ্চিমাদের অনুকরণে ইরানকে ধর্মীয় রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি সেক্যুলার বা ধর্মনিরেপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু অধিক পরিমাণে পশ্চিমাপন্থি এবং সেক্যুলার মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে ইরানের জনগণ এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতারা রেজা শাহের প্রতি অসন্তুষ্ট হতে থাকে। ফলে ১৬ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে ১৯৪১ সালে রেজা শাহ পদত্যাগ করেন। এরপর ক্ষমতায় বসে তার পুত্র মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। তার আমলে ইরানে প্রচুর তেলের খনি আবিষ্কার হয় আর তিনি সব মূল্যবান সম্পদ মার্কিন ও ব্রিটিশদের মালিকানায় রেখে বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানে এক জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব ঘটে, তিনি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। তিনি ছিলেন কিছুটা কমিউনিস্ট ভাবধারার। মোসাদ্দেক তখন মোহাম্মদ রেজার বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। মোসাদ্দেকের রাজনীতির প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি থেকে তেলের মালিকানা মুক্ত করে তেল সম্পদ জাতীয়করণ।
তার এই জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ইরানি জনগণকে খুব দ্রুতই আকর্ষিত করে। ফলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন মোসাদ্দেক। ১৯৫১ সালের ২৮ এপ্রিল মোসাদ্দেক ইরানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মোসাদ্দেকের জয়ের ফলে হুমকির মুখে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ইরান থেকে তাদের স্বল্প দামে তেল আমদানি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রমে পৌঁছায়। মোসাদ্দেকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ইরানের তেল সম্পদ জাতীয়করণ করায়, তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে প্রচুর অর্থ গুনতে হয়।
মোসাদ্দেকের উত্থানের কারণে এই দুটি রাষ্ট্রের জন্য ইরানের তেল হাতছাড়া হতে থাকে। তাই মোসাদ্দেকের এ জয় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হেনরি ট্রুম্যান।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ইরানে একটি সেনা বিপ্লবের নীল নকশা তৈরি করে। যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এজক্স’। এই অপারেশন এজক্সকে আবার অপারেশন বুটও বলা হয়। সিআইএ, এসআইএস লন্ডনে বসে অপারেশন ‘এজক্স’-এর নীল নকশাটি তৈরি করেছিল।
যার ফলশ্রুতিতে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে ১৯৫৩ সালে ঘটে যাওয়া এই অভ্যুত্থানটি ‘১৯৫৩ ওৎধহরধহ পড়ঁঢ় ফবঃধঃ’ নামে পরিচিত। তারপর সেনাপতি ফয়জুল্লাহ জাহেদি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোসাদ্দেকে পদত্যাগ করিয়ে নিজে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তখনও মূল শাসন ক্ষমতা ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান মোহাম্মদ রেজা পাহলভির হাতেই। এরপর মোসাদ্দেককে গ্রেফতার করা হয়।
মোসাদ্দেককের আটকের মধ্য দিয়ে ইরানের জতীয়তাবাদী আন্দোলন একরকম স্থগিত হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেনাবাহিনীতে আরেকটি কাউন্টার অভ্যুত্থান হয় এবং সেই কাউন্টার অভ্যুত্থানে মোসাদ্দেককে উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদ রেজা পাহলভি তখন ইতালিতে পালিয়ে যায়। এরপর সিআইএ এবং এসআইএসের পরিকল্পনা অনুযায়ী আবারও অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
তার মাত্র দুদিন পরেই সেনাবাহিনীতে আবার পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটাতে সক্ষম হয় সিআইএ ও এসআইএস। পশ্চিমাদের সহায়তায় রেজা শাহ পাহলভি ইতালি থেকে ফেরত আসেন ইরানে। এভাবে, পশ্চিমাদের সহায়তায় ইরানে পুনরায় মোহাম্মদ রেজার শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ রেজার শাসনামলে ইরানে ২৮ জনের মতো প্রধানমন্ত্রীর অদলবদল হয়।
১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এর সহযোগিতায় মোহাম্মদ রেজা ইরানে ‘সাভাক’ নামে গোপন পুলিশ ফোর্স গঠন করে। এই সাভাকের কাজ ছিল বিরুদ্ধ মত দমন করা। যারাই রাজবংশের বিরুদ্ধে কিছু বলত তাদেরকে এই পুলিশ ফোর্স গোপনে আটক করে জেলে বন্দি করত।
১৯৭০-এর দশকে মোহাম্মদ রেজা শাহ পশ্চিমা সংস্কৃতির চরম অনুকরণ শুরু করলে দেশব্যাপী এক গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা ঘোষণা করেন, যা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও সঙ্কুচিত করে এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। রাজনৈতিক নির্যাতন, সংবাদপত্রের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ, বিরুদ্ধমতকে দমন করা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক হত্যা ও গুম ইত্যাদির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন শাহ।
এমন সময়ে ইরান থেকে নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির পুনঃআবির্ভাব ঘটে। রেজা পাহলভির পশ্চিমা নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় ১৯৬৩ সালে ‘হোয়াইট রিভল্যুশনের’ মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে নির্বাসনে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি নির্বাসন থেকেই বিপ্লবের ডাক দিতে থাকেন।
রাজনৈতিক ইসলামের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি শাহবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৭৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর খোমেনি প্রথম রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দেন। সেদিন একত্রিত হয় ৬০ থেকে ৭০ লাখক্ষ মানুষ। শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষ ইরানের জনগণ এই আন্দোলন যোগ দেন। পাহলভি দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিশাল সমাবেশকে প্রতিহত করতে পাহলভি বাহিনী নির্বিচারে গুলি শুরু করে বিপ্লবীদের ওপর।
এতে অসংখ্য মানুষ নিহত হন। এই দিনটি ইরানের ইতিহাসে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই আন্দোলন প্রাথমিকভাবে কিছুটা স্তিমিত হয়ে যায়।
এরপর ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি খোমেনি আবার বিপ্লবের ডাক দিলে সাধারণ মানুষ তাতে সাড়া দেয় এবং ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে মোহাম্মদ রেজা দেশ ছেড়ে পালান। ১৫ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন খোমেনি এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা হিসেবে তিনি প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ৩০ মার্চ দেশটিতে এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ইরানি জনগণ ইরানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেয়। ১৯৭৯ সালের ১ এপ্রিল ইরানকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বিপ্লবের কিছুদিন পর অর্থাৎ, ৪ নভেম্বর ১৯৭৯, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস দখল করে নেয় ছাত্ররা। তারা ৫২ জন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিককে ৪৪৪ দিন ধরে জিম্মি করে রাখে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার পর ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদ সমর্থক রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি শীতল বৈরিতা।
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধ হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ইরাককে সমর্থন দেয়, যা ইরানকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে। পরে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে।
২০১৫ সালে ছয় জাতির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর হলেও, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করা হয়। ইরান এই ঘটনার বদলা হিসেবে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ২০২৩-২৪ সালের হামাস-ইসরাইল যুদ্ধেও ইরানকে অভিযুক্ত করে পশ্চিমারা।
তাদের অভিযোগ, ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের ভাষ্য, এটা ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ এবং এটি পশ্চিমা দখলদারিত্ব ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়কজন সদস্য।
এ ছাড়াও নিহত হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় দুই হাজার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রতি-উত্তরে মধ্যপ্রাচ্যের ১১ দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানে এখন পর্যন্ত নিহত ১০৪৫ জন, ইসরাইলে ১১ ও ৬ মার্কিন সেনা নিহত।
ইরান ও পশ্চিমাদের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত আজ আর কেবল আদর্শিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এক জটিল ভূরাজনৈতিক দাবার চালে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা এই বৈরিতাকে এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তবে কৌশলগত দিক থেকে ইরানের একটি বড় শক্তি হলো তাদের সুলভ ও কার্যকর সমরাস্ত্র প্রযুক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তৈরি সাশ্রয়ী ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কয়েকগুণ বেশি দামি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এই ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ ব্যয়ভার দীর্ঘমেয়াদে বহন করা পশ্চিমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে রণক্ষেত্রের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই শত্রুতার অবসান না হলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা যে চিরকাল সুদূরপরাহত থাকবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সময়ের আলো/এআর