ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৮ জন

2026-03-29T17:47:17+00:00
2026-03-29T17:47:17+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম 
ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। 

এসময় তিনি জানান, ঘটনার পর সরকারের কাছে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এ ছাড়া, বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনকে টাকা বা সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মানুষ যখন স্বেচ্ছায় অবৈধ পথে যায়, সেখানে সরকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। 

তবরুকসহ লিবিয়ার বিভিন্ন ‘গেম ঘরে’ এখনো অনেক বাংলাদেশি আটক থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি বা গ্রিসে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাকে দালালেরা ‘গেম’ বলে থাকে। আর যেসব স্থানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকে রেখে পরে নৌকায় তোলা হয়, সেগুলোকে বলা হয় ‘গেম ঘর’।


এদিকে, গ্রিসের কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে মারা যাওয়া লোকদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানির সংকটে মিলিয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুদানের দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জন মারা গেছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৮৭।


/ইউএমএইচ

  বিষয়:   গ্রিস  ভূমধ্যসাগর  বাংলাদেশি  মৃত্যু 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: