ক্ষমতায় আসার পর প্রথম একনেক বৈঠক করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এবার কোন কোন দিকে দৃষ্টি পড়েছে সরকারের তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। এ ছাড়া বৈশ্বিক সংকট ও নানা আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকারের নেওয়া হাজার কোটি টাকার প্রকল্পগুলো সময়বান্ধব হবে কি না তা নিয়েও শেষ নেই জল্পনা-কল্পনার।
এবারের সভায় অনুমোদনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প রয়েছে। এই তালিকায় সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সচিবালয়ের ২১ তলা ভবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়কসহ নানা আলোচিত প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করার জন্য তোলা হবে।
জানা গেছে আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান।
প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় সরকার বিভাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসিক নিবাস নির্মাণ; ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ এবং চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অংশীদারত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন চতুর্থ পর্ব প্রকল্প।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে ৮ বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন প্রকল্প এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।
এ ছাড়া রয়েছে সীমান্ত সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায় এবং ‘ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প’, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈরাগীপুর (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চরকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প।
অন্যদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৩টি, গৃহায়ন ও গণপূর্তের ১টি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১টি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন সরকার আসার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একনেক গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির বিকল্প সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সময়ের আলো/আআ