চাহিদানুযায়ী সরবরাহেও জ্বালানি তেলের সংকট

রফিক রাফি

জাতীয়

বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে আমদানির পরিমাণ

2026-04-14T03:05:53+00:00
2026-04-14T03:05:53+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
চাহিদানুযায়ী সরবরাহেও জ্বালানি তেলের সংকট
রফিক রাফি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৫ এএম 
জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইলের দীর্ঘ লাইন। ছবি: আবদুল হালিম
বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে আমদানির পরিমাণ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করা তেলের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে এবং তা কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের চাহিদানুযায়ী, কখনো তার চেয়ে কিছু কম, আবার কখনো বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পরিমাণ সরবরাহে সংকট হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি চেইন ব্যাহত হওয়ায় সংকট সামাল দিতে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অলিখিত রেশনিং করা হচ্ছে।

বিপিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ব্যাপক চাপ ছিল। ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা সত্ত্বেও আমদানির ধারা সচল রাখতে হয়েছে। গত অর্থবছরে দেশে মোট জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৬৮.৩৫ লাখ মেট্রিকটন। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪৫ লাখ টন), এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েল। এ বিপুল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম  ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশে মোট জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে ৫৭.৪ লাখ মেট্রিকটন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৬৬ শতাংশ বেশি।

গত বছর এপ্রিলে গড়ে দৈনিক ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১১,৮৬২ টন; এ বছর এপ্রিলে গড় বিক্রি ১১,১৩২ টন। গত বছর এপ্রিলে গড়ে দৈনিক অকটেন বিক্রি ১,১৮৫ টন; এ বছর এপ্রিলে গড় বিক্রি ১,২১৭ টন। গত বছর এপ্রিলে গড়ে দৈনিক পেট্রোল বিক্রি ১,৩৭৪ টন; এ বছর এপ্রিলে গড় বিক্রি ১,৪২৭ টন।

দেশে জ্বালানির সবচেয়ে বড় ভোক্তা পরিবহন খাত। মোট আমদানি করা ডিজেলের ৫০-৫৫ শতাংশ ব্যয় হয় এই খাতে। গ্যাস সংকট দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ে; বর্তমানে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোরো মৌসুমসহ সারা বছর সেচকাজে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ১৫-১৭ শতাংশ জ্বালানি কৃষি খাতে ব্যয় হয়।

বিপিসি জানায়, গত বছরের কাছাকাছি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে প্যানিক বায়িং কমছে না। বিশেষ করে পাম্পগুলোতে ভিড় লেগেই আছে। অথচ এসব যানবাহনের বড় অংশ অকটেন ও পেট্রোলে চলে, যা দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ৭১ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।

একদিকে তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমে খবর এসেছে- কিছু মানুষ বাড়ির আঙিনায় ও বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি মজুদ করছেন। পেট্রোল পাম্প মালিকরাও সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি দেখছেন না। এমনও অভিযোগ রয়েছে, কিছু স্টেশন মালিক বিপিসির তিন কোম্পানির ডিপো থেকে পাওয়া তেল পুরোপুরি বিক্রি না করে মজুদ করছেন এবং বেশি দামের আশায় গোপনে বিক্রি করছেন। মূলত এসব কারণেই পাম্পগুলোতে ভিড় কমছে না।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী তিন প্রতিষ্ঠান- পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সঙ্গে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ। সেখানে তেল বরাদ্দে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেলের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে মানুষের মধ্যে তেল মজুদের অদমনীয় প্রবণতা হতাশাজনক। ফলে সরকারকে কৌশলী হতে হচ্ছে। বড় গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গত বছরের বরাদ্দ বিবেচনায় চলতি বছরে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদেরও সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে। কেনার পাশাপাশি মজুদের প্রবণতাও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি সাজ্জাদ করিম কাবুল বলেন, আগে যে তেল তিন দিনেও বিক্রি হতো না, তা এখন ৫-৬ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবুও চাহিদা কমছে না। যুদ্ধের কারণে প্যানিক বায়িং বেড়েছে, ফলে পাম্পে ভিড়ও কমছে না।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তবে দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সব ধরনের উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   চাহিদা  সরবরাহ  জ্বালানি  তেল  সংকট 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: