লোডশেডিং লোডেড

রফিক রাফি

জাতীয়

তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা, আর সেই চাহিদার বিপরীতে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি করেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। রাজধানীতে তুলনামূলক

2026-04-24T01:52:39+00:00
2026-04-24T02:16:43+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
লোডশেডিং লোডেড
রফিক রাফি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫২ এএম  আপডেট: ২৪.০৪.২০২৬ ২:১৬ এএম  (ভিজিট : ৪৮)
গ্রাফিক : সময়ের আলো
তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা, আর সেই চাহিদার বিপরীতে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি করেছে উদ্বেগজনক বাস্তবতা। রাজধানীতে তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ লোডশেডিং মানুষের জীবনযাত্রা ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সরকারি হিসাবে ঘাটতি প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু বাস্তব চিত্র আরও ভয়ংকর। 

বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু জ্বালানি নেই; উৎপাদন সক্ষমতা আছে, কিন্তু কাঁচামালের সরবরাহ নেই। গ্যাস, কয়লা ও আমদানি নির্ভর জ্বালানির সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বহুমাত্রিক জটিলতায় মোড় নিয়েছে। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ, আদানির একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি, বাঁশখালী কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো সংকটকে তীব্র করেছে। সরকার গ্রাম-শহর লোডশেডিং সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগও এসেছে। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠেছে : এই সংকট কি কেবল সাময়িক, নাকি দীর্ঘদিনের নীতিগত ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ?

চাহিদা বাড়ছে, জোগান কমছে : ঢাকাসহ দেশের ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে দ্রুত। বৃহস্পতিবার ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরকারি হিসাবেই প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই ঘাটতি আরও বেশি বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা, কোথাও কোথাও তার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।

পিজিসিবি আগে ঘণ্টাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের তথ্য দিলেও বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটে সে তথ্য না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে। দুপুর ১টায় উৎপাদন দেখানো হয় ১৪ হাজার ১৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা স্পষ্টতই অপ্রতুল। বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এ গরমে চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটেও উঠতে পারে। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট উঠেছে। এতেই আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সামনে তাপমাত্রা আরও বাড়লে চাপ বাড়বে।

উৎপাদন আছে, জ্বালানি নেই : সংকটের বড় কারণ জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের অভাবে সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার হচ্ছে। দেশে উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে তার বড় অংশ অলস। 

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেছেন, বুধবার চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বৃহস্পতিবার চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট, উৎপাদন সম্ভাবনা ১৪ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি। 

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি বড় বাধা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফটি গ্যাস পেলেও উৎপাদন বাড়ানো যেত, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ৮৫০-৯০০ এমএমসিএফটির মতো। শিল্প, সার কারখানা ও বিদ্যুৎ; সবখানে চাপ বাড়ছে।

ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক উৎপাদন কমিয়ে সাশ্রয়ের চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে ডিজেলচালিত কেন্দ্রও চালুর ভাবনা আছে।

চাপ বাড়াচ্ছে কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকট : সংকটকে আরও জটিল করেছে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা। ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ। এতে আমদানি সরবরাহ কমেছে। বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্লান্টের একটি ইউনিটে বিভ্রাটে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট কম পাওয়া যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ। 

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ। বাঁশখালী অর্ধেক উৎপাদন করছে। এতে জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে আঘাত করছে।

গ্রামে অন্ধকার, শহরে আশঙ্কা : রাজধানী এখনও তুলনামূলক স্বস্তিতে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের দীর্ঘ লোডশেডিং সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্ন তুলছে। কৃষি উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থী, হাসপাতাল– সবখানেই এর প্রভাব পড়ছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও ১০ ঘণ্টা, কোথাও ১২ ঘণ্টার বেশি। এতে শুধু ভোগান্তি নয়, উৎপাদনশীলতাও কমছে। গ্রাম-শহর সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কতটা হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ সংকটের সময় বোঝা সমান ভাগে না পড়লে ক্ষোভ বাড়তে পারে।

গ্রাম-শহরে লোডশেডিং সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত : ঘাটতি সামাল দিতে সরকার গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিংয়ের ভারসাম্য আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন অভিযোগ ছিল রাজধানীকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং চাপানো হচ্ছে। এখন তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

উম্মে রেহানা বলেন, ফিডারভিত্তিক ভারসাম্য, সেচ কার্যক্রম ও বিতরণ ব্যবস্থায় টেকনিক্যাল সমন্বয় নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে আরইবি এলাকায়। ৮০টি বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় অনেক এলাকায় দিনে ৮-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো হলেও আরইবির বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্ভোগ বেশি। কৃষি সেচও এতে ঝুঁকিতে পড়ছে।

ঢাকায় স্বস্তি, কিন্তু চাপ বাড়ছে ডিজেলে : ঢাকায় ডেসকো ও ডিপিডিসির সূত্র বলছে, সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো চাহিদায় বড় ঘাটতি নেই। তবে কারিগরি বিভ্রাট হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরে যদি লোডশেডিং বাড়ে, ডিজেলনির্ভর জেনারেটরের ব্যবহার বাড়বে। রাজধানীর বহু কারখানা ও বিপুলসংখ্যক ফ্ল্যাটে জেনারেটরনির্ভর ব্যাকআপ রয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয় ও চাপ দুটোই বাড়বে।

বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা : বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলছেন, এটি মৌসুমি চাপের চেয়ে বড় কাঠামোগত সংকট। একসময় গ্যাস উৎপাদন ৩১০০-৩৩০০ এমএমসিএফডি বলা হলেও এখন তা ২৭০০-এর নিচে। চাহিদা প্রায় ৪ হাজার এমএমসিএফডি। ফলে প্রায় ১৩০০ এমএমসিএফডি ঘাটতি। 

তার ভাষায়, সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি না থাকায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা পরিস্থিতি জটিল করেছে। সংকট এলেই আলোচনা হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যাওয়া হয় না– এই প্রবণতা বদলাতে হবে। তিনি সাশ্রয়ী ব্যবহার ও জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। বলেন, কেবল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনা নয়, নীতিগত সংশোধন ছাড়া এ সংকট ঘুরেফিরে আসবে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি নিশ্চিত না করেই অতীতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এতে ভর্তুকির চাপও বাড়ছে। একদিকে বকেয়া দায়, অন্যদিকে তেল কিনতে না পারায় তেলচালিত কেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাগজে সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে উৎপাদন সীমিত।

সংসদে ১০ সদস্যের কমিটি, সমাধানে রাজনৈতিক সমন্বয়ের উদ্যোগ : জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ। জাতীয় সংসদে আলোচনার পর এই প্রস্তাব সামনে আসে। সরকারি দলের পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করে বিরোধী দলকেও পাঁচজনের নাম দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই কমিটির প্রধান হবেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সরকারি দলের পক্ষ থেকে আরও আছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মইনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। বিরোধী দলও সদস্য দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারের তাৎক্ষণিক রোডম্যাপ : আদানির বন্ধ ইউনিট ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সচল হওয়ার আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। তারা বলছে, আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটও ২৮ এপ্রিলের মধ্যে উৎপাদনে ফেরার কথা। এতে কয়েকশ মেগাওয়াট যোগ হতে পারে জাতীয় গ্রিডে। বড়পুকুরিয়ার তৃতীয় ইউনিট চালু হলে বাড়তি ২৭৫ মেগাওয়াট পাওয়া যাবে। ফার্নেস অয়েলচালিত উৎপাদনও সীমিতভাবে বাড়ানোর চিন্তা আছে। প্রয়োজনে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রও চালানো হতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতিও সরকারের আশাবাদের জায়গা। দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যৎ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সরকার। 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসবই আংশিক স্বস্তি। মূল সমস্যা জ্বালানি সরবরাহে। সেখানে স্থায়ী উন্নতি ছাড়া ঘাটতি পুরোপুরি কাটবে না।

সামনে আরও কঠিন গ্রীষ্ম : বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গরম আরও বাড়লে বর্তমান চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। তখন বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আরও প্রকট হবে। ইতিমধ্যে শিল্পাঞ্চলে চাপ তৈরি হচ্ছে। সেচ মৌসুমও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কৃষি, শিল্প ও আবাসিক– তিন দিকের চাহিদা একসঙ্গে বাড়লে সরবরাহে চাপ বহুগুণ হবে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সীমিত জ্বালানি বণ্টনের অগ্রাধিকার ঠিক করা। বিদ্যুৎ, শিল্প, সার কারখানা সব খাতই একই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এক খাতে বাড়ালে অন্য খাতে চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় সংকট কেবল বিদ্যুৎ ঘাটতির নয়, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নেও রূপ নিচ্ছে।

ক্যাপাসিটি চার্জের বিতর্ক : বর্তমান সংকট আবার সামনে এনেছে পুরোনো বিতর্ক– যথেষ্ট জ্বালানি নিশ্চিত না করেই কেন অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছিল? খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহু কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। উৎপাদন না করেও ভাড়া পরিশোধের এই কাঠামো ভর্তুকির চাপ বাড়িয়েছে। এখন জ্বালানি ঘাটতিতে সেই সক্ষমতার বড় অংশই অচল।

ড. ইজাজ হোসেনের মতে, এটি শুধু সরবরাহ সমস্যা নয়, নীতিগত পুনর্বিবেচনারও সময়। আমদানি নির্ভরতা, গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে থাকা, জ্বালানি বৈচিত্র্যের অভাব; সব মিলিয়ে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।

উত্তরণের পথ কোথায় : বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জায়গায় জোর দিচ্ছেন। এগুলো হলো : প্রথমত স্বল্পমেয়াদে গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ বাড়ানো। দ্বিতীয়ত লোড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্য বণ্টন। তৃতীয়ত দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো। চতুর্থত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো।

তাদের মতে, সংকট এলেই তা সামলানো নয়, সংকটের আগেই প্রস্তুতি, এই দর্শনে ফিরতে হবে। ড. ইজাজ হোসেনের ভাষায়, ‘ক্রাইসিস এলে কথা বলি, পরে ভুলে যাই’ এই চক্র ভাঙতে না পারলে লোডশেডিং ফিরে আসতেই থাকবে।

এফআর


  বিষয়:   বিদ্যুত  চাহিদা  জ্বালানি  ঘাটতি  লোডশেডিং 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: