প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
সংগৃহীত ছবিবাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফ-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে দুই হাজার ৯১১ ডলার, আর ভারতের দুই হাজার ৮১২ ডলার। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানায় তারা।
আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতি অনেক বড়। তবে, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই হার সামান্য কিছু বাড়লেও পরের বছর, ২০২৭ সালে আবার বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে ভারত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাথাপিছু জিডিপি বাড়ার পূর্বাভাস দেখে আত্মতুষ্টিতে ভোগার খুব বেশি সুযোগ নেই। কারণ এটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানে খুব একটা পরিবর্তন আনবে না। মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকার পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতাসহ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ সাধারণত বছরে দুইবার প্রকাশিত হয়, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী পূর্বাভাস দেওয়া হয়। এর আগের বছর ২০২৫ সালের যে হিসাব রয়েছে সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল তিন হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশের মাত্র ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বেশি পার্থক্য রয়েছে। কোনো এক বছরের মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে কোনো একটি দেশের অর্থনীতিকে তুলনামূলক পার্থক্যের জায়গায় নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হারকে জিডিপি দিয়ে ভাগ করা হয়, সে কারণে এই পার ক্যাপিটা জিডিপিতেও পরিবর্তন আসে। আইএমএফ-এর রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে সেটি আরও স্পষ্ট হয়।
জাহিদ হোসেনের এই বক্তব্য কিছুটা স্পষ্ট হয় রিপোর্টের পরের ধাপে। কেননা ২০২৬ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি কমলেও ২০২৭ সালে সেটি আরও বাড়তে পারে বলেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর এই বৃদ্ধি ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ধারণা দিচ্ছে আইএমএফ।
সময়ের আলো/আআ