ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হকাররা

সমীরণ রায়

জাতীয়

যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযানের পর ভ্যানগাড়ি ও চৌকি খাটিয়ে ফুটপাত

2026-05-04T20:46:33+00:00
2026-05-04T20:46:33+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হকাররা
সমীরণ রায়
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম 
ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হকাররা। ছবি : সংগৃহীত
যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অভিযানের পর ভ্যানগাড়ি ও চৌকি খাটিয়ে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় বসেছেন হকাররা। গত ১ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন ফুটপাত ও সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযানে পরিচালনা করা হয়। অবশ্য, উচ্ছেদ অভিযানে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি এলেও আয়ের উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলে এখন ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় বসে পড়েছেন হাজারো হকাররা। ফলে জীবিকার তাগিদে রাজধানীর ফুটপাত ও রাস্তা এখন জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। হকারদের দাবি, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করি। অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করলে, আমরা কোথায় যাবো? খাবো কি? তাই উচ্ছেদ করা হলে কি আমরা চলে যাবো? এটা হয় নাকি? তাই আগের স্ব স্ব স্থানে চৌকি ও ভ্যানগাড়ি নিয়ে বসিয়েছি।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) হকার কার্ড দেওয়ার ঘোষণায় ফুটপাতের হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ইতোমধ্যে রাজধানীর মিরপুর ১০, মিরপুর ১ এবং মিরপুর ২ এর মুলসড়কের ভ্রাম্যমাণ ২০২ জন ব্যবসায়ীর (হকার) মাঝে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এছাড়া ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১০০ জনকে (ডিজিটাল পরিচয়পত্র) হকার কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বৈধতা দেওয়াসহ ব্যবসার জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তবে সংস্থা দুটি পর্যায়ক্রমে কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে হকাররা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় বসে পড়েছেন। এখন তারা হকার কার্ড পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তদবির। একই সঙ্গে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি হকারদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে। শুধু তাই নয়, হকারদের পুনর্বাসনের কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন।
আরও পড়ুন

অবশ্য, হকারদের দাবি, আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলেই কি সেখানে যাবো। আমার যে যেখানে ব্যবসা করি, সেখানেই থাকবো। আমরা ব্যবসা করি গুলিস্তানে। আর আমাকে পাঠানো হলো মিরপুরে। সেখানে গিয়ে কি ব্যবসা করতে পারবো? ব্যবসা হবে না। তাই সব কথা শোনার সময় নেই। যেখানে আছি সেখানেই থাকবো। উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আমাদের উঠিয়ে দেওয়া হলো

আর আমরা চলে গেলাম, সেটি কিভাবে হয়? আমরা তো নেতাদের টাকা দেই। চাইলেই কি উঠিয়ে দেওয়া সম্ভব? সিটি করপোরেশনেরও অনেক কর্মকর্তা টাকা নেন। আমাদের উচ্ছেদ করেছিল। আবার আমরা বসেছি। যাবো কোথায়। দীর্ঘদিন থেকে যেখানে ব্যবসা করি, অন্য জায়গায় গেলে কি আমাদের ব্যবসা চলবে। সিটি করপোরেশন বলছে, আমাদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু আমি ব্যবসা করি গুলিস্তানে, আমাকে মিরপুর পুনর্বাসন করলে সেখানে চলে যাবো, এটা হয় নাকি। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। আমাদের হকার কার্ড দেওয়া হবে। আমরা নেতাদের টাকা দিছি না, চাইলেই অন্য জায়গায় যাবো না।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথ উদ্যোগে ফুটপাত ও সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু অভিযান পরিচালনা করার পর পরই হকাররা আবার স্ব স্ব স্থানে বসে পড়েছেন। তারা এখন ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় চৌকি ও ভ্যানগাড়ি নিয়ে বসিয়েছেন নানা ধরণের পণ্যের পসরা। রাজধানীর সব চেয়ে ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান যেন আবারও হকারদের দখলে।

তারা এখন শুধু ফুটপাতই নয়, রাস্তায়ও বসে পড়েছেন। এমন চিত্র মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, সায়েদাবাদ, ধোলাইখাল, ফার্মগেট এলাকার ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, আনন্দ সিনেমা হল, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনের অংশ, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরায় আবারও বসে পড়েছেন হকাররা। উচ্ছেদ অভিযান শেষেই ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে অস্থায়ী দোকান ও নানা পণ্যের পরসা নিয়ে বসেছেন হকাররা। এই এলাকার ফুটপাতই নয়, রাস্তার বড় অংশজুড়ে আবারো বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ্‌ মাজারের সামনের রাস্তায় পূর্বে স্থায়ী চৌকি ও ভ্যানগাড়ি বসিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। নানা ধরণের পোশাক, জুতা, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে তারা আগের মতোই ব্যবসা করছেন। সবখানেই সড়ক আর ফুটপাতজুড়ে সারি সারি দোকান। নানান পণ্যের সমাহারে সেজেছে রং-বেরঙের দোকান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে সবই কিছুই আছে।

এদিকে, ফুটপাত হকারমুক্ত করতে এবং হকারদের পুনর্বাসনে রাজধানীতে ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্প্রতি রাজধানীর নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেটা চান, শুধু হুট করে উচ্ছেদ করলে হবে না। এদের একটা বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে। সেটার জন্য ঢাকা শহরে আমরা ৮টি নৈশ মার্কেট করার চিন্তা করছি। নৈশ মার্কেট বলি বা যেটাই বলি, নৈশকালীন। অর্থাৎ, অফিস আওয়ারের পর বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১২টার আগ পর্যন্ত সেখানে তাদের বসাতে চাই যেন সারাদিন সব জায়গায় হকারদের মার্কেট না বসে।

রাজধানীর গুলিস্তানের রমনা হোটেলের সামনে বাচ্চাদের গ্যাঞ্জি, প্যান্ট নিয়ে ভ্যানগাড়িতে ব্যবসা করছেন রহিম মিয়া। তিনি প্রায় ৮ বছর যাবত এখানে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু কোথায় যাবো। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ফলে আমরা আবার বসেছি। দীর্ঘদিন থেকে এখানে ব্যবসা করি। আমাদের নাকি জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু অন্য জায়গায় গিয়ে তো ব্যবসা করতে পারবো না। ইতোমধ্যে আমাদের কাছ থেকে কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে কার্ড দেবে নাকি। আমরা নেতাদের টাকাও দিয়েছি।

রাজধানীর গুলিস্তানে স্যান্ডেলের ব্যবসা করেন কেরামত আলী (ছদ্ম নাম)। বয়স প্রায় ৬০ ছুঁই ছুঁই। তিনি বলেন, উচ্ছেদ করছিল। আবার বসেছি। যাবো কোথায়? খাবো কি? উচ্ছেদ করলেই হলো? টাকা দেই। পুলিশকে টাকা দেই। বিএনপির নেতাকে টাকা দেই। স্থানীয় নেতাদের টাকা দেই। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের টাকা দেই। কার্ড দিছে, তার জন্যও টাকা নিছে।

সিটি করপোরেশনও কি টাকা নেয়? এমন প্রশ্নের জবাবে কেরামত আলী বলেন, আপনার কাছে কি মনে হয়, সিটি করপোরেশনে যারা আছেন, তারা ভালো মানুষ। এখন শুনছি আমাদের নাকি পুনর্বাসন করবে? কিন্তু কোথায় করবে? এখানে আমি ব্যবসা করে জীবনটা পার করে দিলাম প্রায়। এখন মিরপুর পুনর্বাসন করবে, আর চলে যাবো তা হয় নাকি? বললেই যাবো নাকি? এখানেই থাকবো। এই ব্যবসা দিয়ে সংসার চলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে কলেজে পড়াশোনা প্রায় শেষ। এখানে ব্যবসা করেই তাদের পড়াশোনা করিয়েছি। কোথাও যাবো না।

আপনি যে রাস্তায় ভ্যানগাড়ি নিয়ে বসেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যেখানে দীর্ঘদিন থেকে বসে আসছি, সেখানেই বসেছি। ফুটপাতে তো আরেকজন আছে। এটা নেতারা জানেন।

রাজধানী গুলিস্তানে ফ্লাইওভারের নিচে জিন্সের প্যান্ট ও টি শার্টের ব্যবসা করেন রাসেল মোল্লা। তিনি ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় চৌকি বসিয়ে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর এখানে ব্যবসা করি। গত মাসে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছি। শুধু গত মাসে নয়, গত সরকারের আমলেও অনেকবার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা বসেছি। এবারও উচ্ছেদ করার পর আবার বসছি। আমার কোনো হকার কার্ড নেই। একজন বলছিল, কার্ড করে দেবে। কিন্তু পরে আর আসেনি। আমরা তো এমনিতেই টাকা দেই। টাকা দিয়েই তো ১০ বছর যাবত ব্যবসা করে আসছি। শুনছি, আমাদের নাকি অন্য জায়গায় বসার ব্যবস্থা করবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু এখান থেকে কেন যাবো? এখানে ব্যবসা করতে করতে সবাই পরিচিত হয়ে গেছে। অন্য জায়গায় গেলে ব্যবসা ভালো চলবে না। এই ব্যবসা করেই আমরা সংসার চলে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক  মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে হকারদের বিকল্পস্থানে স্থানান্তর করা হবে। এ পর্যন্ত ২০২ জন হকারের মাঝে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে মিরপুর-১৩ ওয়াসা রোডে এবং বাকি ১০০ জনকে গাবতলী কাজা বাজার সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত মোট হকারের সংখ্যা ৮২৯ জন। বাকি হকারদেরও পর্যায়ক্রমে পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হবে। স্থানান্তরের জন্য স্বল্প সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পুরোনো স্থানে হকার পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। হকারদের স্থায়ী কোনো কাঠামো নির্মাণ না করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হকারদের জন্য পৃথক হকার্স মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পথচারী ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রেখেই হকার পুনর্বাসন করা হচ্ছে। অতীতে হকাররা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করার ফলে জনভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। এখন থেকে ফুটপাত বা রাস্তার নির্ধারিত স্থানে, নির্দিষ্ট সংখ্যক হকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসতে পারবেন। আমরা পথচারী ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা নিশ্চিত করেই হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের কাজ করছি। তাদের পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) রাজধানীর শৃঙ্খলা ফেরাতে হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে তাদের উদ্যোগ সমালোচনার মুখে পড়েছে। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নীতি, সঠিক তালিকা প্রণয়নের অভাব, সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনা। এতে সমস্যার সমাধান না হয়ে আরও জটিল হয়েছে। হকার পুনর্বাসনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন। প্রথমেই জানতে হবে কারা প্রকৃত হকার। তাদের সংখ্যা কত। তারা কোথায় এবং কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে। এটি না হলে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো হবে। সিটি কর্পোরেশনগুলো দাবি করে তারা হকারদের তালিকা করেছে। বাস্তবে সেই তালিকা অসম্পূর্ণ। এতে প্রকৃত হকাররা বঞ্চিত হয় ও অন্যরা সুবিধা ভোগ করে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে ভুয়াদের নাম তালিকাভুক্ত হয়। বিকল্প জীবিকার টেকসই ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হলে তারা কোথায় বসবে, কীভাবে ব্যবসা চালাবে? ফলে হকাররা বাধ্য হয়ে আবারও ফুটপাত বা রাস্তায় ফিরে আসে। এখানে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একদিকে, সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে হকারদের বসতে দেওয়া হয় বা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। এই দ্বৈত নীতি সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে এবং দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে।

এএডি/
  বিষয়:   ফুটপাত  রাস্তা  হকার 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: