সরকার কর্তৃক নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে এবং এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে এসে দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অনুচিত ছিল বলে মনে করছে এই সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ‘চলতি অর্থবছরের উত্তরণকালীনে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভায় সিপিডির পক্ষ থেকে এই অর্থনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
সিপিডির গবেষকেরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান যে জাতীয় রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের চলমান বিশৃঙ্খলাসহ নানা জটিল কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।
এই চাপের মাঝেই অর্থবছরের শেষদিকে এসে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিদ্যুৎ ও তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রত্যক্ষভাবে যারা এগুলো ভোগ করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এর পরোক্ষ প্রভাবে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচও অনেক বেড়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য অবশ্যই বাড়তি বোঝা হবে, তবে এর অপ্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাবগুলো সরকার অন্যান্য যথাযথ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও প্রণোদনা দিয়ে কিছুটা কমপেনসেট বা সমন্বয় করতে পারে।
আলোচনা সভায় দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিডি জানায় যে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও ব্যাংকের সার্বিক কাঠামোগত পরিস্থিতির তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এখনও তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আহরণে অনেক বেশি পিছিয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনও দেশের সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। সেমিনারে দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান বাজারে এমনিতেই মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ রয়েছে।
এই অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যদি নতুন করে নবম পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়, তবে তা বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নীতি নির্ধারণে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
সময়ের আলো/টিএইচ