ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবি স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনকে কেবল সংবাদপত্রের ‘কাটিং-নির্ভর’ বলে অভিহিত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আসা এই ধরনের ঢালাও মন্তব্য মূলত মূল সংকটকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে রোববার (৭ জুন) একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সমালোচনার জবাব দেয়। টিআইবির ওই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ২৯৪টি ছিনতাই, ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গতকাল জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টিআইবির ডাটা প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। তারা কোনো তদন্ত করে না।’ একই সময়ে পুলিশ সদর দফতরও এই পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ধরন ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করে যে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি।
নিজেদের প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের এমন তুমুল আলোচনা ও সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বলা হয়, মন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে টিআইবি নিজে কোনো তদন্ত করে না, কারণ টিআইবি কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত সংস্থা নয়। এটি মূলত সামাজিক বিজ্ঞান সুশাসন ও গবেষণানির্ভর একটি দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন, যা জনসচেতনতা তৈরি ও জনসম্পৃক্ততাভিত্তিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও ব্যাখ্যা করা হয় যে, টিআইবি সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণগত এবং পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষেত্র থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা বহুমাত্রিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করেই প্রতিবেদন তৈরি করে। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সংস্থাটি জানায় যে গবেষণার খাতিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্য অবশ্যই সংগ্রহ করা হয়, তবে তা চূড়ান্ত করার আগে যথাযথ মান যাচাই করা হয় এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রত্যক্ষ উৎসের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে যে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন না? তাই অপপ্রচারের নামে গণমাধ্যম ও টিআইবির প্রতিবেদনকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।
পুলিশ কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে টিআইবি উল্লেখ করেছে যে, পুলিশ প্রশাসনও কিন্তু দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, সেই মূল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করতে পারেনি। তবে পুলিশ বাহিনী আগের যেকোনো মেয়াদের সঙ্গে যে তুলনামূলক বিশ্লেষণের প্রত্যাশা করেছে, তা এই সুনির্দিষ্ট ১০০ দিনের প্রতিবেদনের পরিধির মধ্যে না থাকায় এ ধরনের কোনো তুলনা করা টিআইবির পক্ষে যৌক্তিক ছিল না।
সময়ের আলো/টিএইচ