বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। নতুন এক সমঝোতায় দুই দেশের মধ্যে সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯টি থেকে ৮৪টি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বাড়তি ফ্লাইটের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হবেন হজ ও ওমরাহযাত্রীরা। বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ ও আসন সংকট মোকাবিলায় এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনায় এয়ারলাইনগুলোর সক্ষমতা বাড়বে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এই উদ্যোগের সরাসরি সুফল পাবেন। ফ্লাইটের পাশাপাশি আসনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, যা যাত্রীদের সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে পারে।
সুযোগটি কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক থাকছে না। নতুন চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পথ আরও সুগম হচ্ছে।
যাত্রী পরিবহনের বাইরে কার্গো খাতেও এসেছে সুখবর। সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইটের অনুমোদন পাওয়ায় তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও সতেজ শাকসবজি দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এছাড়া 'ফিফথ ফ্রিডম' ট্রাফিক অধিকারের আওতায় সৌদি আরব হয়ে স্পেন বা জার্মানির মতো তৃতীয় কোনো দেশেও পণ্য পরিবহনের দরজা খুলছে দেশীয় এয়ারলাইনগুলোর জন্য।
নতুন এই চুক্তিতে আরও থাকছে আন্তর্জাতিক কোড-শেয়ারিং ও কো-টার্মিনালাইজেশনের মতো সুবিধা। ফলে ব্যস্ত মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী লিজে (ওয়েট লিজ) উড়োজাহাজ এনে দ্রুত বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পারবে বিমান সংস্থাগুলো।
সার্বিক এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নতুন সমঝোতা শুধু ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী যোগাযোগ, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুই দেশের এয়ারলাইনগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের এমন পদক্ষেপ দেশের এভিয়েশন খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে উল্লেখ করে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এই সমঝোতা দুই দেশের বিমান চলাচল সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জেডি