বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় সই হতে যাচ্ছে। এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী।
এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।’
মন্ত্রী জানিয়েছেন, উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তির মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে চারটি এ৩৫০-৯০০ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটের যাত্রী চাহিদা পূরণ করা হতে পারে। যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার এ উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস উড়োজাহাজও যুক্ত হবে। অতীতে বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির জেট উড়োজাহাজের বেশির ভাগই বোয়িংয়ের তৈরি। ফলে এ৩৫০ ও এ৩২১নিও যুক্ত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস— দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে পরিচালিত হবে বিমান।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ওই ক্রয় পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। ফলে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের মোটুক্তি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এত দিন বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্প সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজগুলো হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান।
এয়ারবাসের সঙ্গে ৭ অক্টোবর চুক্তি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এত দিন বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ারবাসও যুক্ত হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ