আজ সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। এ বছর বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। জাতিসংঘ ১৯৮৫ সালে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এর পরের বছর, ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ‘বাসস্থান আমার অধিকার’— প্রতিপাদ্য নিয়ে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। এরপর প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এবারের বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ৫-৮ অক্টোবর ওমানের রাজধানী মাসকাটে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ‘আরবান অক্টোবর’-এর সূচনা হবে। একই সময়ে অনুষ্ঠিত ‘হোম অ্যান্ড বিল্ডিং এক্সপো’র সঙ্গেও বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশেও প্রতি বছর বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দ্রুত নগরায়ণের চাপ মোকাবিলায় সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্যের মূল তাৎপর্য।
এদিকে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি এক বাণীতে বলেন, মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা হলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী, দূষণমুক্ত, পর্যাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভূমির উচ্চমূল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে আবাসন সংকট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই বাসস্থান সংকট আরও প্রকট। সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে তার দেওয়া বাণীতে বলেন, সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগরায়ণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নগর উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগর জীবন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই ৪৪ বছরে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাতগুণ। একই সময়ে ঢাকার ভূমির তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হারিয়ে গেছে শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ জলাধার। ঢাকার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ সবুজ আচ্ছাদন কমতে কমতে নেমেছে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশে।
বিভিন্ন কর্মসূচি : আজ সকাল ১০টায় ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এ মেলায় রিহ্যাব, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদফতর, গণপূর্ত অধিদফতর, নগর পরিকল্পনাসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার মোট ১৫৭টি স্টল থাকছে। বিশ্ব বসতি দিবসে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে