আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে দেশের করজালের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বড় ধরনের করছাড়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একদিকে সাধারণ করদাতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, অন্যদিকে সৃজনশীল অর্থনীতি, ওষুধ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করছেন।
করের পরিধি বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত
এবারের বাজেটে করের জাল বাড়াতে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) সনদ বাধ্যতামূলক করা। তবে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব, ১০ টাকার নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট, সরকারি ভাতা ও পেনশনভোগীদের হিসাবের ক্ষেত্রে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে দেশে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ
দেশের প্রায় ৭০ লাখ খুচরা বিক্রেতার পণ্য কেনার সময় প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা অর্থাৎ দশমিক ২ শতাংশ হারে উৎসে অগ্রিম কর কাটার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পণ্য সরবরাহকারীরা এই কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এই প্রসঙ্গে বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ও এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসা-বাণিজ্যের ছাড় ইতিবাচক হলেও বাড়তি রাজস্ব আদায়ের জন্য বিদ্যমান করদাতাদের ওপর যেন চাপ না দেওয়া হয়।
নিত্যপণ্য ও ব্যক্তিশ্রেণির করছাড়
উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, তেল ও চিনিসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ১ থেকে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা পৌনে চার লাখ টাকা করা হচ্ছে এবং ব্যাংকে রাখা টাকার আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হচ্ছে।
সৃজনশীল অর্থনীতি ও তরুণদের উপহার
তরুণদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তুলতে গিটার, পিয়ানো ও ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র আমদানির ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ভ্যাট ও স্থান ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।
ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর দাম কমবে
হৃদরোগীদের চিকিৎসার খরচ কমাতে হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে, যাতে প্রতি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। চোখের লেন্সের ১০ শতাংশ ভ্যাট তুলে দেওয়ায় লেন্স প্রতি ৫ হাজার টাকা এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ভ্যাট ও অগ্রিম কর তুলে দেওয়ায় ডায়ালাইসিস প্রতি ৮count টাকা খরচ কমবে। এ ছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ ও দেশীয় ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সোনা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির খরচ হ্রাস
সোনার অলংকার কেনাকাটায় বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে দিয়ে ভরিপ্রতি ২৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং সরবরাহের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির সার্বিক শুল্ক-কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে গাড়ির দাম ভেদে ৬৪ ও ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইভির নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নের অগ্রিম কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।