বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই : সিপিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বৃহস্পতিবার (১১ ) সন্ধ্যায় সিপিবির সভাপতি কাজী

2026-06-11T22:25:03+00:00
2026-06-11T22:25:03+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই : সিপিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বৃহস্পতিবার (১১ ) সন্ধ্যায় সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

দলটির দাবি, বাজেটে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে এই বাজেট বৈষম্য আরও বাড়াবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি অসার বা ফাঁকা বলে প্রতিভাত হচ্ছে। এই বাজেট বৈষম্য আরও বাড়াবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সিপিবি নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেটে ঘাটতি মেটাতে নতুন করে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একদিকে নতুন ঋণনির্ভর বাজেট, অন্যদিকে সুদ পরিশোধকে প্রধান ব্যয় খাত হিসেবে রাখা বাজেটের দুর্বলতা ও অসারতার প্রমাণ বলে তারা মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, সরকার প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জিত হবে, এমন আস্থা তৈরি হয়নি। বরং বড় অঙ্কের বাজেট দেখিয়ে অর্থনীতির বাস্তব সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, যা সে সময়ের জিডিপির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল। অথচ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৮ গুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হলেও তা জিডিপির মাত্র ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে বাজেটের আকার বাড়লেও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি, বরং কমেছে বলে দাবি করে সিপিবি।

দলটির নেতারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত ও নীতির প্রভাবে সরকার করের আওতা সম্প্রসারণের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ, চাকরিজীবী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিপরীতে বড় ব্যবসায়ী, ব্যাংকের মালিক ও আমদানিকারক গোষ্ঠী সুবিধা পাবে, যা বৈষম্য আরও তীব্র করবে।

বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতারা। তবে সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সিপিবি। 

সময়ের আলো/আআ
  বিষয়:   বাজেট  মূল্যস্ফীতি  নিয়ন্ত্রণ  দিকনির্দেশনা  সিপিবি 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: