ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে দৃশ্যমান সংস্কার জরুরি : সাবেক গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃশ্যমান সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ

2026-06-11T22:44:54+00:00
2026-06-11T22:44:54+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
জাতীয়
ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে দৃশ্যমান সংস্কার জরুরি : সাবেক গভর্নর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ১৭)
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃশ্যমান সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, সংস্কারের বাস্তব প্রয়োগ দেখা গেলেই বোঝা যাবে সরকার ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা আন্তরিক। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগের ধারা টেকসই করতে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকে কোনো একটি পরিবারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সীমিত করতে ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এসব সংশোধনী বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে একক বা পুঞ্জীভূত নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার করতে একটি সংশোধিত খসড়া সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যা এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপ কমানো সম্ভব হবে।

সাবেক এই গভর্নর বলেন, সরকার অতীতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) বিলুপ্ত করার কথা বললেও সেটি এখনও পূর্ণ ক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি সত্যিই হস্তক্ষেপ কমাতে চায়, তাহলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগের ঘটনা, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, এ ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি একে ‘অপ্রয়োজনীয় ও নিজে থেকে ডেকে আনা সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তাও ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকটি শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে ফিরে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিপুল পরিমাণ আমানত প্রত্যাহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়া এই ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ থেকে ১২ কোটি মানুষ যুক্ত। তাই এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ব্যাংকটির পরিচালনায় একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অনিশ্চয়তা অনেকাংশেই নিজে থেকে তৈরি হয়েছে। দৃশ্যমান সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আস্থা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অন্যথায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বিরোধের বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন। আলোচনার মাধ্যমে সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারের উচিত ব্যাংক, আমানতকারী, সামগ্রিক অর্থনীতি এবং দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ব্যাংকিং  আস্থা  সংস্কার  জরুরি  সাবেক  গভর্নর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: