প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
এছাড়া বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে থাইল্যান্ডসহ ১৮টি দেশে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২২ জুন তিনি কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন তিনি চীন সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর থেকেই সরাসরি বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
বৈঠক শেষে মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ আছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে বাজারটি আবার খোলার বড় একটি সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’
এদিকে, সম্প্রতি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়ে কিছু বাংলাদেশির ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ায় এখন থেকে যারা যাবেন, তারা যেন কোনোভাবেই যুদ্ধে না জড়ান এবং কেবল ওয়ার্কিং ভিসায় যান, তা বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিএমইটি (BMET) কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধে জড়ানোর একটি অভিযোগের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে। যেসব এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং রিক্রুটিং লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।’
রাশিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা ও জটিলতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেখানে যুদ্ধের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও স্থানীয় লোকজন চলে যাওয়ায় বড় একটি কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়েছে। সরকারের আগামী পাঁচ বছরের টার্গেটে রাশিয়ায় ৩ থেকে ৪ লাখ কর্মী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য পুরো দেশের বাজার বন্ধ করে দেওয়া যৌক্তিক হবে না। মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়; বরং কীভাবে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার (ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট) মাধ্যমে লোক পাঠানো যায়, আমরা সেদিকে জোর দিচ্ছি।’
বিদেশে কর্মী পাঠানো এবং প্রতারণা রোধের বিষয়ে মো. নুরুল হক জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১০-১২ লাখ লোক বিদেশে যান। এর মধ্যে ২-৪ হাজার লোকের ক্ষেত্রে ভিসা বা প্রতারণাজনিত সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ বোর্ড কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশেও মাঝে মাঝে স্ক্যাম বা প্রতারণার ঘটনা ঘটে। তবে লিগ্যাল ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও মন্ত্রণালয় লোক পাঠাতে বাধা দিলে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বাজার নষ্টের অভিযোগ তোলে। তাই এখন থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি ভিসা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি