নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ৭টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান। এদিন প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
সংসদে মন্ত্রী জানান, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধসমূহের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪-এর বিধান অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অধিকতর দ্রুত করা হয়েছে এবং অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
নারী ও শিশুদের সেবা প্রদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা, পুলিশি সেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সুবিধা পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু সেবা পেয়েছেন। এছাড়া তাৎক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানকারী টোল ফ্রি ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার-১০৯ এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জনকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং হেল্পলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী সংসদে আরও জানান, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্ত একটি নতুন আইন প্রণয়ন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি