দেশে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) সকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে এই মেগা উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিশেষ অঞ্চলে প্রচলিত কাস্টমসের কোনো কঠোর নিয়মকানুন কার্যকর থাকবে না। এটি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) সুবিধা পাবে। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি মোট ৬০০ একর জমিতে এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারায় ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) স্থাপনের লক্ষ্যে স্পেশাল পারপাস কোম্পানির সঙ্গে ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ (উন্নয়ন চুক্তি) এবং ‘ল্যান্ড লিজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ভূমি ইজারা চুক্তি)-এর অনুমোদন ও স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়েছে উল্লেখ করে ড. নাসিমুল গনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়াতে বড় বিপদ হয়েছে। পূর্ববর্তী দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি ও তেল আনা বিঘ্নিত হচ্ছে। চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে আমাদের স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।”
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নানামুখী উদ্যোগের ফলে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট আমাদের শিখিয়েছে যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল ও জ্বালানি কেনার প্রচলিত ব্যবস্থাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার।
সভায় কৃষি খাতের জন্য জরুরি সার আমদানির একটি প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জরুরি চাহিদা মেটাতে রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
সময়ের আলো/জেডি