জাপানের স্থানীয় প্রশাসনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র। পশ্চিমাঞ্চলের ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা তার প্রথম সন্তানের জন্মের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩৫ বছর বয়সী শোকো কাওয়াতা বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে কিছুদিনের জন্য দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন, তবে পুরোপুরি দায়িত্ব ছাড়ছেন না; বরং সীমিতভাবে সিটি হল থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘটনা জাপানের ইতিহাসে এটিই প্রথম। প্রায় ৬৮ হাজার জনসংখ্যার ইয়াওয়াতা শহরটি ঐতিহ্যবাহী চা সংস্কৃতি ও চেরি ফুলের জন্য পরিচিত।
গত মে মাসে তার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শহরের অনেক বাসিন্দা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। কেউ নবজাতকের জন্য হাতে তৈরি জুতা উপহার দেন, আবার কেউ শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী উপহার প্রদান করেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই, যাদের বড় অংশ পুরুষ ব্যবহারকারী, তাকে ‘দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া’ বলে সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনকে প্রশাসনিক দায়িত্বের ওপর প্রাধান্য দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
আরও পড়ুন
সমালোচনার জবাবে শোকো কাওয়াতা বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে জাপানি সমাজে নারীদের প্রতি বিদ্যমান দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। তার মতে, কর্মজীবী নারীরা এখনো নানা ধরনের সামাজিক চাপ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হন।
তিনি বর্তমানে সিটি হল থেকে সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানকার একটি কক্ষ, যেখানে পূর্ববর্তী পুরুষ মেয়রদের প্রতিকৃতি রাখা আছে, সেখানেই তিনি সাক্ষাৎকার ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
তার এই সিদ্ধান্ত শুধু ইয়াওয়াতা শহরেই নয়, বরং পুরো জাপানজুড়ে কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং পারিবারিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
জাপানি সমাজে কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বজনিত বৈষম্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ‘মাতাহারা’ (ম্যাটারনিটি হ্যারাসমেন্ট) শব্দটি। বিশ্লেষকদের মতে, সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ ছুটি নিলে অনেক নারীর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যার কারণে অনেকে প্রাপ্য সুবিধা নিতেও দ্বিধা করেন।
এএডি/