ভারত ভ্রমণের পর নারীর মস্তিষ্কে মিলল ৩৮টি পরজীবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রায় এক মিটার দীর্ঘ একটি ফিতাকৃমি দেখতে পান ব্রিটিশ মিডিয়া কর্মী লোরি ডেনম্যান। ঘটনাটি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে

2026-07-01T23:25:26+00:00
2026-07-01T23:25:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারত ভ্রমণের পর নারীর মস্তিষ্কে মিলল ৩৮টি পরজীবী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি

শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রায় এক মিটার দীর্ঘ একটি ফিতাকৃমি দেখতে পান ব্রিটিশ মিডিয়া কর্মী লোরি ডেনম্যান। ঘটনাটি প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী বাসা বেঁধেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এই বিরল ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

বর্তমানে ৪২ বছর বয়সী লোরি জানান, ফিতাকৃমিটি দেখতে ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘খাঁজকাটা সেলোটেপের মতো’।

চিকিৎসকদের মতে, এটি ছিল ‘নিউরোসিস্টাইসারকোসিস’ রোগের প্রথম লক্ষণ। এই সংক্রমণের কারণে লোরিকে তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি এবং সাইকোসিস বা মানসিক বিভ্রমের মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

২০০৭ সালে তিন মাসের জন্য ভারত সফরে গিয়েছিলেন লোরি। সংক্রামক রোগ ও অণুজীববিজ্ঞানের পরামর্শক চিকিৎসক ড. ব্র্যান্ডন হিলির ধারণা, ওই সফরেই তিনি এই সংক্রমণে আক্রান্ত হন।

ভ্রমণের সময় খাদ্যে বিষক্রিয়া এড়াতে লোরি মাংস খাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে ড. হিলির ধারণা, অসাবধানতাবশত তিনি এমন কোনো খাবার খেয়েছিলেন, যাতে শূকরের ফিতাকৃমির ডিম ছিল।

এর প্রায় তিন বছর পর, ২০১০ সালে একটি রেস্তোরাঁর শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রথম ফিতাকৃমিটি দেখতে পান লোরি। পরে সেটি ফ্লাশ করে দেন। এরপর মলের নমুনা পরীক্ষা করানো হলে ফল স্বাভাবিক আসে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর গুরুত্ব দেননি।

তবে কৃমি দেখার এক বছরের মধ্যে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন তিনি। লোরি বলেন, আমি কথা বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছিলাম। এরপর যখন আমার জ্ঞান ফেরে, দেখি আমি একটি অ্যাম্বুলেন্সে। আমি ভাবছিলাম, এটা কীভাবে হলো? কেন হলো?

আরও পড়ুন

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ক্যাট স্ক্যান ও এমআরআই করা হয়। লোরির ভাষায়, ডাক্তার আমাকে বসিয়ে বললেন, আমরা আপনার স্ক্যান রিপোর্ট দেখেছি এবং আপনার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী পাওয়া গেছে। আমি এবং আমার মা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা ভাবছিলাম, এ কেমন রোগ!

দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে পরজীবীনাশক ওষুধ এবং স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এরপর কিছুদিন মনে হয়েছিল চিকিৎসা সফল হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছর তিনি তুলনামূলক সুস্থ ছিলেন।

কিন্তু পরে কর্মস্থলে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান লোরি। নতুন স্ক্যানে দেখা যায়, পরজীবীগুলোর চারপাশে তার মস্তিষ্কে বড় ধরনের ফোলা সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকে তিনি প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে পড়তেন। পাশাপাশি শরীর অবশ হয়ে যাওয়া এবং ঝিঁঝিঁ ধরার মতো উপসর্গও দেখা দেয়। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

প্রায় ছয় সপ্তাহ একটি নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন লোরি। তিনি বলেন, আমার মধ্যে প্যারানয়া এবং সাইকোসিস ভর করেছিল... প্রচণ্ড উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাক হতো।

লোরির ২০ বছরের পুরোনো বন্ধু নিকোলা ব্রাউন জানান, হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। নিকোলার ভাষায়, আমি ঘরে ঢুকে দেখলাম সে বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে। মেঝেতে হামাগুড়ি দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে লুকাচ্ছে, বাবার কোলে এমনভাবে বসে আছে যেন তার বয়স মাত্র পাঁচ বছর।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর লোরির মস্তিষ্কে থাকা পরজীবীগুলো এখন ক্যালসিফাইড, অর্থাৎ মৃত ও শক্ত হয়ে গেছে। লোরি বলেন, মস্তিষ্ক থেকে এগুলো বের করার জন্য আমার কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শক্ত হয়ে যায়।

ড. ব্র্যান্ডন হিলি জানান, সব পরজীবীর ডিম ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে লোরি বিপদমুক্ত। ২০১৭ সালের পর তার আর কোনো খিঁচুনি হয়নি। তবে সারা জীবন তাকে মৃগীরোগের ওষুধ সেবন করতে হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   লোরি ডেনম্যান  পরজীবী 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: