বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
এই নিয়োগের জন্য শূন্যপদ রাখা হচ্ছে ৬৯ হাজার ৫৭৭টি। রোববার (৫ জুলাই) এনটিআরসিএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এন্ট্রি লেভেল শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদফতর যাচাই-বাছাই শেষে ১১৬টি বিষয়ের বিপরীতে ৭৫ হাজার ৭৬৯টি শূন্যপদের তথ্য দিয়েছে। এসব পদের মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ বাদ দিয়ে ৬৯ হাজার ৫৭৭টি পদে নবম এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এনটিআরসিএ ‘নবম এনটিআরসিএ এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিয়োগ পদ্ধতি ও পরীক্ষার সিলেবাসের অনুমোদন চেয়ে প্রশাসনিক অনুমতি চেয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ৭৬৯টিতে। পরে বিভিন্ন কারণে আরো পদ বাদ দেওয়া হলে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য ৬৯ হাজার ৫৭৭টি পদ নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। সংস্থাটির পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন বিভাগের সদস্য মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আবেদন গ্রহণ ও নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শূন্য পদের ‘ই-রিকুইজিশন’ আহ্বান করা হয়। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ১৫ মার্চ এ কার্যক্রম শেষ হয়। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য হালনাগাদের (ই-রেজিস্ট্রেশন) কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এর আগে সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ৬৭ হাজার ৮৭টি শূন্যপদে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন ধাপে প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য অষ্টম গণবিজ্ঞপ্তিতে ১২ হাজার ৯৫১টি পদের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করে আসছে। আর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের সুপারিশ করার দায়িত্ব পায় সংস্থাটি। এরপর সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষককে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ।
সময়ের আলো/আআ