খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে।রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা

2026-07-06T19:27:01+00:00
2026-07-06T19:27:01+00:00
 
  সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
খামেনির জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম 
খামেনির জানাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে। সংগৃহীত ছবি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান উঠেছে। 

রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে এই আহ্বান জানানো হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। যুদ্ধের কারণে দাফন প্রক্রিয়া দেরি হয়। এখন ইরানজুড়ে তার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আয়োজন চলছে।

গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এই জানাজা শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আবেগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাজারো মানুষ আগের রাত থেকেই মসজিদ চত্বরে অবস্থান নেন। তাদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং লাল পতাকা।

জানাজা পড়ান কোম শহরের ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের আরও তিন সদস্যের জানাজা হয়। এর মধ্যে ছিলেন তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানি। শিশুটির ছোট কফিন দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জানাজা শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রাসুলি একটি কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানে বলেন, এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের পোশাক। আপনার রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব। 

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, আমরা কেন তাকে হত্যা করব না? এটা না করা আমাদের জন্য কলঙ্ক। তার বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা তুমুল করতালি দিয়ে সমর্থন জানায়।


ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর বলেন, জনগণ দুটি স্লোগান দিচ্ছেন শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ।

বাবার মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনিকে জানাজায় দেখা যায়নি। তার তিন ভাই মুস্তফা, মাসুদ ও মেসাম উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় মোজতবা আহত হয়েছিলেন, তবে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি।

জানাজায় আল-কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি, আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার চত্বর ভোর হওয়ার আগেই কানায় কানায় ভরে যায়। অনেকে সাদা কাফন পরে এসেছিলেন। চারদিকে স্লোগান উঠছিল, কোনো আপস নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়, শুধু প্রতিশোধ। কিছু জায়গায় ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা বার্তাও দেখা যায়।

তেহরানের বাসিন্দা লায়লা আহমাদি বলেন, প্রয়োজনে লাঠি-কোদাল নিয়েও আমরা লড়ব। আরেক বাসিন্দা হোসেন দেহঘান বলেন, নেতাকে সন্ত্রাসী কায়দায় হত্যা করার পর মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ। এটা কোনো স্বাধীন দেশের সঙ্গে করা যায় না।

জানাজার পর সোমবার তেহরানে বড় শোকমিছিল হবে। এরপর খামেনির মরদেহ কোম, তারপর ইরাকের পবিত্র শহরগুলো হয়ে শেষে মাশহাদে দাফন করা হবে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ট্রাম্প  খামেনি  জানাজা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: