বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা মিসাইল হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধ ও বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কারের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের

2026-07-08T11:45:07+00:00
2026-07-08T11:45:07+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা মিসাইল হামলা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও যুদ্ধ ও বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে তেল ট্যাঙ্কারের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর, তার পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ৮৫টি মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।

ইরানের এই আকস্মিক হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েত জুড়ে এয়ার রেইড সাইরেন (বিমান হামলার সতর্কতা) বাজানো হয়। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই যৌথ অপারেশন চালানো হয়েছে। এ সময় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকেও ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। কুয়েতি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক শত্রুভাবাপন্ন মিসাইল ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় কাতার ও সৌদি আরবের ফ্ল্যাগধারীসহ তিনটি বড় বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়। কাতার এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে।

এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিমান হামলা শুরু করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত করার অপরাধে ইরানের ৬০টিরও বেশি সামরিক স্পিডবোট, রাডার ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং ড্রোন ও মিসাইল লঞ্চ সাইট ধ্বংস করেছে। মার্কিন হামলায় ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপ, কশেম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরের উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। 

সামরিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক আঘাত হেনেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে ওপেনলি তেল বিক্রির যে বিশেষ লাইসেন্স বা ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা মঙ্গলবার বাতিল করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ইরানকে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের সমস্ত তেল লেনদেন গুটিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ-এর বেশি বেড়ে গেছে।

গত জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল কাতারে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি আনা। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর রুট নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে ইরানের ফি (ট্যাক্স) আদায়ের চেষ্টা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মার্কিন হামলা ও তেল নিষেধাজ্ঞাকে চুক্তির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, দাদাগিরি ও চাঁদাবাজির দিন শেষ। আমরা মাথা নত করব না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি স্থায়ী কোনো চুক্তিতে না আসে তবে মার্কিন বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে। 



সময়ের আলো/কহু


  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  ইসরায়েল  হামলা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: