বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকলেও রোগীদের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে ১৯ শয্যার ভবনে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছেন চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি গত বছরের অক্টোবর মাসে যোগদানের পর হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এক্স-রে মেশিন চালু, প্যাথলজি সেবার উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন। রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থা অর্জন করেছেন।
এদিকে হাসপাতালের ওষুধ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. কামাল হোসেন মুফতি। এ বিষয়ে সোমবার রাতে হাসপাতাল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আশির দশকে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রম চলছে ১৯ শয্যার ভবনে। পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও প্রায় দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালে ৫১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে সাতজন ডেপুটেশনে এবং একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাত্র ছয়জন চিকিৎসক নিয়মিত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।
এ ছাড়া ৩২টি স্টাফ নার্সের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৭ জন। নয়জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এসএমসি এমও পদের সংখ্যা ১৮ হলেও কর্মরত আছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন জেলা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, সুইপার ও ওয়ার্ডবয়ের ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকট সত্ত্বেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। পাশাপাশি অন্তর্বিভাগেও নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে ৫২ ধরনের ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং ১০ ধরনের সিরাপ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য অসংক্রামক (এনসিডি) রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনার আওতায় গত ১৭ জুন ২০২৫ থেকে নিবন্ধিত এক হাজার ৬৩৭ জন রোগীকে প্রতি মাসে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন নতুন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী নিবন্ধন করছেন বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ সিফাত খান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ‘হাসপাতালে ওষুধ সংকটের কোনো সমস্যা নেই। একটি মহল বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ভুল তথ্য দিয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রতিটি চিকিৎসকের দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোও নিয়মনীতি মেনে পরিচালিত হতে হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে