দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষক নিয়োগের জন্য নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৭০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত শূন্য পদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৭৫,৭৬৯টি পদ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য সংরক্ষিত ও অন্যান্য কিছু পদ বাদ দিয়ে সর্বমোট ৬৯,৫৭৭টি শূন্য পদের অনুমোদন চেয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এনটিআরসিএ-র সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক জানান, নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
এবারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ আর হবে না; বরং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরাসরি একটি সুনির্দিষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
নতুন এই নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। যারা এই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, কেবল তাদেরই এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত সনদ দেওয়া হবে।
এর আগে, শিক্ষকদের শূন্য পদের অনলাইন চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদের (ই-রেজিস্ট্রেশন) কার্যক্রম কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে গত ১৫ এপ্রিল শেষ করা হয়। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি এনটিআরসিএ ৬৭,০৮৭টি শূন্য পদের জন্য সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদের জন্য ১২,৯৫১টি পদের অষ্টম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে আসা এনটিআরসিএ-কে ২০১৫ সালে সরকার নিবন্ধন সনদের পাশাপাশি সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে বিগত সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। নতুন পদ্ধতিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/জেডি