কক্সবাজারের চকরিয়া ও ঢাকার মিরপুরে যুগপৎ অভিযানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছে দেশের অন্যতম বড় বন্যপ্রাণী চোরাকারবারি হাদিস রহমানের অপরাধ সাম্রাজ্যের। গত ৭ জুন এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানের সূত্রপাত ঘটে। ওয়াইল্ডলাইফ ইন্সপেক্টর অসীম মল্লিকের এক বিশ্বস্ত তথ্যদাতা জানান, চকরিয়ার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে কিছু বন্যপ্রাণী আটকে রাখা হয়েছে।
তথ্যদাতার পরামর্শে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বন বিভাগ ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একটি দল চকরিয়ায় দ্রুত অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১২টি পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ ও ১টি হনুমানসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় চোরাচালানি হাদিস রহমানকে। হাতেনাতে গ্রেফতারের পর ৯ জুন তাকে আদালতে তোলা হলে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালেও বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে হাদিসের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন অসীম মল্লিক।
হাদিসকে গ্রেফতারের সময় বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ঢাকার মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে তার একটি গোপন গোডাউনে অভিযান চালায়। দেড় বছর আগে কবুতরের খামার করার কথা বলে ভাড়া নেওয়া এই টিনশেড গোডাউনটি মূলত আন্তর্জাতিক চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় রাজ ধনেশ, চশমাপরা হনুমান, শজারু, লজ্জাবতী বানর, ঈগল, পেঁচা, এশিয়ান পাম সিভেট ও হলুদ কচ্ছপসহ মোট ৪২টি বন্যপ্রাণী।
তদন্তে জানা গেছে, হাদিস প্রথমে মিরপুর-১১ তে পাখির দোকানের আড়ালে বন্যপ্রাণী কেনা-বেচা করলেও পরবর্তীতে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দিকে ঝুঁকে পড়েন। বড় বড় স্থানীয় প্রভাবশালী মিডলম্যানদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তিনি বন্যপ্রাণী চোরাচালানের মাফিয়া হয়ে ওঠেন। তার এই অনলাইনের কারবার দেখাশোনা করতেন স্ত্রী খুশি রহমান, যিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোকে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায়, দুর্বল করে খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারকারীরা জানান, প্রাণীগুলোর গন্ধ ও গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা ছিল। পরে সেগুলোকে উদ্ধার করে বনভবনের রেসকিউ সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সুস্থতার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানে রূপনগর থানা পুলিশ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
সময়ের আলো/জেডি