শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় জড়িত ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, মোজাফফর হোসেন অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন না। ফলে সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লে. কর্নেল সামি আরও জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যোগ করেন এ সেনা কর্মকর্তা।
এর আগে, বুধবার রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।
এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর অন্যতম বলে অভিযোগ আছে। মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন, তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মঞ্জুর নিহত হন। বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন। অবশেষে তাকে আটক করা হলো।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ