সরকারি চাকরি পেতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিজের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে (প্রক্সি) দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস সহায়ক’ পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়ে যোগদান করতে এসে ধরা পড়েছেন চার প্রার্থী।
কর্মকর্তারা মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবির সঙ্গে চাকরিতে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের চেহারার অমিল দেখতে পেলে বিষয়টি উদঘাটিত হয়। রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে এসে ওই চারজন আটক হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. হালিম (রোল-১৯০০৪৪৮১), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার (রোল-১৯০১৬৩৯১), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন (রোল-১৯০১১৯৩৩) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির (রোল-১৯০১৯২৫৭)।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলাম জানান, এদিন ২০ জন অফিস সহায়ক এবং পাঁচজন সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। মৌখিক পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। যোগ দিতে আসা প্রার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ের সময় সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে চারজনের ক্ষেত্রে অসংগতি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, কাগজপত্র ও সংরক্ষিত ছবি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এই চার ব্যক্তি নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি প্রক্সি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি স্বীকারও করেছেন এবং লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করেছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে যোগ দিতে ডাকা হয়। এ সময় পরিচয় যাচাইয়ের মধ্যেই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি