চুপ্পুর সঙ্গে এবার হামিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ‘বাংলাদেশ আজাদি পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্রসংলাপ

2026-07-27T01:19:11+00:00
2026-07-27T01:19:11+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
চুপ্পুর সঙ্গে এবার হামিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১:১৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ‘বাংলাদেশ আজাদি পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামের দুটি সংগঠন পৃথকভাবে এ অভিযোগ করেছে। সাহাবুদ্দিনের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে আজাদি পার্টি।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, তাকে লক্ষ্য করে আলাদা কোনো আর্থিক তদন্ত করবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মো. সাহাবুদ্দিনের বঙ্গভবন ত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। তবে একই দিনে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, সরকারের দুর্নীতি-সংক্রান্ত পর্যালোচনা এবং আর্থিক খাত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান- সব মিলিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।

গতকাল চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত এত লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনোদিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এ দুই রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল।

আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, একে একে জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যত গণহত্যা হয়েছে, যত নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- সব ঘটনার সময় এ দুই ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। 

এ অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ওই ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন। এ দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি এ অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের অভিযোগ
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের সংগঠন শুধু সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেছেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যায়।

দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সরকার
চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। মন্ত্রী বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী সব কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।


আলাদা তদন্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আর্থিক অনিয়মের আলাদা কোনো তদন্ত করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি নয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করে। কোনো ব্যাংক পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পরিচালনা পর্ষদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। তাকে লক্ষ্য করে বিশেষ কোনো অনুসন্ধান চালানোর সুযোগ বা নীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেই। তবে চলমান ব্যাংকভিত্তিক তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পরে স্পিকার সংবাদ সম্মেলনে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২১ মাস আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে ওঠেন। পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে চলে যান। শুধু এই সময়টুকুতে সরকারি কাজের জন্য দায়মুক্তি ভোগ করেন। এনসিপিসহ কয়েকটি দল সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যা এবং পরবর্তী সময়ের ভূমিকার জন্যও তার বিচার দাবি করেছে। 

তাদের দাবি, ২০২৪ সালে ২১ জুলাই শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েছিল স্মারকলিপি নিয়ে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়েও জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার প্রাণ রক্ষায় কিছুই করেননি। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেননি। কারফিউ দিয়ে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির নামে জারি হলেও সাংবিধানিকভাবে এসব কাজের দায়ভার রাষ্ট্রপ্রধানের নয়। তবে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ এস আলম সংশ্লিষ্টতা। বিএফআইইউ তদন্ত অনুযায়ী, ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করা এস আলম গ্রুপ সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা ঋণের নামে নিয়ে পরিশোধ করেনি।

এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জামানত নেই। ভুয়া কোম্পানিগুলো ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে, ব্যাংকের টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে। ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ছিলেন সাহাবুদ্দিন। তাকে এস আলমের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার দাবি করছে বিরোধীরা।

২০২৫ সালের শেষভাগে হাইকোর্টের নির্দেশে বিএফআইইউ ৪২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে জেএমসি বিল্ডার্স এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তিনি দুদকের কমিশনার পদে থাকা অবস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। 

অন্যান্য দেশের মতো সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে দায়িত্বকালীন সময় এবং কাজের জন্য। ৫১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কিছু করলে বা না করলে এ জন্য তাকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। ৫১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা দায় বা চালু রাখা যাবে না। তাকে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠাতে কোনো আদালত পরোয়ানা জারি করতে পারবেন না।’

তবে ৫২ অনুচ্ছেদে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের বিধান রয়েছে। তা সংসদে প্রমাণ হলে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   চুপ্পু  হামিদ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: