অসিয়তের মাধ্যমে সম্পদের সুরক্ষা

মাওলানা মাহমুদ হাসান

ইসলাম

পৃথিবীতে মানুষের মালিকানাধীন বলতে প্রকৃত অর্থে কিছু নেই। মানুষ নিজেও নিজের মালিক নয়। মানুষের মালিক আল্লাহ। মানুষের মালিকানায় যা কিছু

2026-07-30T10:52:31+00:00
2026-07-30T11:42:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
অসিয়তের মাধ্যমে সম্পদের সুরক্ষা
মাওলানা মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ এএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ১১:৪২ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
পৃথিবীতে মানুষের মালিকানাধীন বলতে প্রকৃত অর্থে কিছু নেই। মানুষ নিজেও নিজের মালিক নয়। মানুষের মালিক আল্লাহ। মানুষের মালিকানায় যা কিছু থাকে, এসবেরও প্রকৃত মালিক আল্লাহ। মানুষকে এসব আল্লাহ দান করেন আমানত হিসেবে, নেয়ামত হিসেবে। মানুষের জীবন ও সম্পদ কোনোটাই স্থায়ী নয়। 

যেকোনো মুহূর্তে যে কারও ডাক চলে আসতে পারে পরপারের। তাই পার্থিব জীবনের মালিকানাধীন সম্পদ মৃত্যুর আগেই অসিয়তের মাধ্যমে অন্যদের মালিকানায় অর্পণ করে যাওয়া কর্তব্য। একজন মুসলমান পার্থিব জীবন এমনভাবে অতিবাহিত করবে, যেন সে কোনো মেহমানখানায় অবস্থানরত ক্ষণকালের মেহমান বা মুসাফির। 

যে মুহূর্তে তার প্রস্থানের নির্দেশ আসবে, আর সে এর জন্য প্রস্তুত। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে মুসলিমের অসিয়ত করার মতো বিষয়-আশয় রয়েছে, তার উচিত নয় অসিয়ত অলিখিত অবস্থায় দুই রাত অতিবাহিত করা’ (বুখারি : ২৭৩৮)। ইসলামে অসিয়তের প্রকার ও বিধান সম্পর্কে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলো।

অসিয়তের প্রকার : 
মৌলিকভাবে অসিয়ত চার প্রকার- 
১. ওয়াজিব। নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজসহ আল্লাহ ও বান্দার যেসব হক অনাদায় থেকে যায় সে সম্পর্কে মৃত্যুর আগে অসিয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব। 
২. মুবাহ। ধনী ব্যক্তির সম্পদ সম্পর্কে অসিয়ত করা মুবাহ বা বৈধ। 
৩. মাকরুহ। পাপাচারীর জন্য অসিয়ত করা মাকরুহ। 
৪. মুস্তাহাব। এ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে মুস্তাহাব। (দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার : ৫/৩১৫)

অসিয়তের সময় সাক্ষী : অসিয়ত করার সময় দুজন সাক্ষী রাখা উচিত, যেন পরবর্তী সময়ে মতানৈক্য সৃষ্টি না হয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোকের সাক্ষী রাখবে।’ (সুরা মায়েদা : ১০৬)

অসিয়তযোগ্য সম্পদের পরিমাণ : সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ অসিয়ত করা জায়েজ। এর চেয়ে বেশি অসিয়ত করা জায়েজ নয়। তবে যদি অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা এক-

তৃতীয়াংশের বেশি সম্পদের অসিয়ত অনুমোদন করে, তা হলে সে অসিয়ত বৈধ হবে। তবে শর্ত হচ্ছে ওয়ারিশরা প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে (বুখারি : ৫৬৬৮)। অসিয়তকারীর পক্ষে অসিয়ত কোনো চুক্তি নয়। কাজেই অসিয়ত করার পর যতদিন সে জীবিত থাকে, ততদিন তা প্রত্যাহার করার অধিকার তার থাকে।

ঋণ পরিশোধের অসিয়ত করা : যেসব হক আদায় করা ওয়াজিব তার জন্য অসিয়ত করাও ওয়াজিব। যেমন একজন ঋণ নিয়েছে। তার কর্তব্য হলো, এই অসিয়ত করে রাখা যে, তার সম্পদ থেকে যেন এ ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ঋণের খবর ঘরের লোকদেরও জানা থাকে না। এমতাবস্থায় তার মৃত্যুর পর জানা না থাকার কারণে কাছের লোকরাও তা পরিশোধ করতে পারে না। ফলে এ হক তার জিম্মায় থেকেই যায়। ঋণ শোধ হয় না। সেও দায়মুক্ত হতে পারে না। পরকালে এর জন্য তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।

নামাজ-রোজার ফিদয়ার অসিয়ত : কারও জীবনে কোনো নামাজ-রোজা কাজা হয়ে থাকলে জীবদ্দশাতেই তা আদায় করে ফেলা উচিত। যদি কাজা আদায়ের সুযোগ না পাওয়া যায়, তা হলে এই মর্মে অসিয়ত করে যাওয়া ফরজ যে আমার জিম্মায় এত নামাজ, এত রোজা কাজা রয়েছে। এগুলোর ফিদয়া যেন আদায় করা হয়। যদি কেউ এমন অসিয়ত না করে, তা হলে সে গুনাহগার হবে।

জাকাত আদায়ের অসিয়ত : কারও ওপর কয়েক বছরের জাকাত ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও সে আদায় করেনি। তার কর্তব্য বিগত বছরগুলোর হিসাব করে জাকাত আদায় করা। জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ আদায় করতে না পারলে মৃত্যুর আগে অন্তত অসিয়ত করে যাবে যে, আমার এ পরিমাণ জাকাত অনাদায়ি রয়ে গেছে। তা যেন আদায় করা হয়। অন্যথায় গুনাহগার হবে।

বদলি হজের অসিয়ত : কারও ওপর হজ ফরজ হয়েছে। কিন্তু আদায় করতে পারেনি। তার কর্তব্য হলো, বদলি হজের অসিয়ত করে যাওয়া। অসিয়ত না করলে দ্বিগুণ গুনাহ হবে। প্রথমত ফরজ আদায় না করার গুনাহ। দ্বিতীয়ত মৃত্যুর আগে অসিয়ত না করে যাওয়ার গুনাহ।

মৃত্যু-পরবর্তী অঙ্গদানের অসিয়ত : মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর তার মালিকানা স্বত্ব নেই। তাই এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার অধিকারও মানুষের নেই। আর অসিয়ত তথা উইল কেবল স্বীয় মালিকানাধীন সম্পদের মধ্যেই করা যায়। তাই মৃত্যু-পরবর্তী অঙ্গদানের উইলের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ইসলামে নেই। (মুসনাদে আহমাদ : ১৮১৫২, দুররুল মুখতার : ১০/৩৩৭)

জানাজা পড়ানোর অসিয়ত : কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা জানাজা পড়ানোর অসিয়ত করে গেলে তার অসিয়ত পূরণ করা কতটুকু জরুরি? এর জবাব হলো, অসিয়তকৃত ব্যক্তি যদি শরিয়ত কর্তৃক জানাজা পড়ানোর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত না হয়ে থাকে, তা হলে এ ধরনের ব্যক্তির ব্যাপারে মাইয়েতের অসিয়ত পূরণ করা জরুরি নয়। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিই জানাজা পড়াবেন। অসিয়ত বাতিল বলে গণ্য হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২২৪)

গুনাহের কাজের অসিয়ত : গুনাহের কাজের অসিয়ত করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং তা পূর্ণ করা যাবে না। করলে গুনাহ হবে (রদ্দুল মুহতার : ১০/৩৯৭)। আল্লাহ তায়ালা এসব বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   অসিয়ত  সম্পদ  সুরক্ষা 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: