হাঁচি দেওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কর্ম। হাঁচি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা আনুযায়ী, মানুষ যখন হাঁচি দেয় তখন ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ মাইল বেগে নাক দিয়ে বাতাস বেরিয়ে আসে। আর এর সঙ্গে বেরিয়ে আসা জলীয় পদার্থ প্রায় পাঁচ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। প্রায় ২০০০ থেকে ৫০০০ জীবাণুযুক্ত তরল পদার্থ নাক-মুখ দিয়ে হাঁচির মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। আসলে সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের নাকের ভেতরের অংশের দিকে লোম থাকে। অনেকের কাছেই এগুলো বিরক্তিকর। তবে এসব আসলে মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী। এমনি এমনি এসব থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাকের ভেতরের চুল কখনোই চিমটা দিয়ে উঠানো উচিত নয়। এই লোম নাকের ভেতরে ধুলোবালি আটকাতে সাহায্য করে। এই লোম পার হয়ে যখন কোনো কিছু নাকের ভেতরে প্রবেশ করে তখন হাঁচি হয়। বিশেষ করে দেহে বাইরের জীবাণু প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঝাঁজালো বা কড়া গন্ধ থেকেও হাঁচি হতে পারে। আসলে ধুলোবালি জাতীয় কোনো পদার্থ হোক আর কোনো গন্ধই হোক না কেন, মানুষের নাকের ভেতরে শিহরণ বা সুড়সুড়ি সৃষ্টি হলেই হাঁচির সৃষ্টি হয়।
হাঁচি যেহেতু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিষয়, তাই ইসলামেও হাঁচির বিষয়ে সুন্দর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ হাঁচি দিলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা ইসলামের শিক্ষা ও শিষ্টাচার। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, কেউ হাঁচি দিয়ে যেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে। সে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার অপর মুসলমান ভাই বা সঙ্গী যেন ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে। পরে হাঁচিদাতা জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে (শুকরিয়াস্বরূপ) সে যেন বলে, ‘ইয়াহদিকাল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকা, অর্থাৎ আল্লাহ তোমায় সৎপথে চালিত করুন এবং তোমার অবস্থার সংশোধন করুন।’ (বুখারি : ৬২২৪)
‘আলহামদুলিল্লাহ’ এটি একটি কুরআনিক শব্দ। যার অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। কোনো কিছু পাওয়ার পর কিংবা কোনো কিছু খাওয়ার পর সাধারণত আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলি। কোনো সুসংবাদ, রোগমুক্তি কিংবা অন্তর শীতল করা আবেগ-অনুভূতির ক্ষেত্রেও আলহামদুলিল্লাহ বলি। প্রশ্ন হচ্ছে বাহ্যত হাঁচির মাধ্যমে এগুলোর কোনোটাই দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রকৃত মুমিন তার বিশ্বাস যে এর মাঝে মুমিনের কল্যাণ রয়েছে তাই এমনটা আদেশ করা হয়েছে। কিন্তু সংশয়বাদী অনেকেই তা বিশ্বাস করে না। রাসুল (সা.)-এর সেই আদেশকে তারা তাচ্ছিল্য করে। এটা তাদের প্রতিনিয়ত অভ্যাস। আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে রাসুল (সা.) যে আদেশ দিয়েছেন বর্তমান বিজ্ঞান তার লাভ অকপটে স্বীকার করছে।
হাঁচি আপনার দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। কারণ এর মাধ্যমে আমাদের দেহ থেকে বিভিন্ন জীবাণু বের হয়ে যায়। কেউ যদি হাঁচি আটকে রাখে তা হলে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। ঘণ্টায় ১০০ মাইল থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মাইল এই চাপকে জোর করে শরীরের ভেতর গিলে নিলে ভেতরে বহু ক্ষতি হতে পারে। হাঁচির মাধ্যমে যেহেতু মানুষ মারাত্মক ক্ষতি থেকে মুক্তি লাভ করে এ কারণেই হাদিসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাঁচির পর শুকরিয়াস্বরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শিখিয়েছেন। কতই না সুন্দর ও চিন্তালব্ধ ইসলামের শাশ্বত বিধান! আল্লাহ তায়ালা বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/জেডআই