জুমার খুতবা কি দাঁড়িয়ে দেওয়াই বাধ্যতামূলক?

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার খুতবা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু

2026-11-06T12:37:49+00:00
2026-11-06T12:37:49+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
ইসলাম
জুমার খুতবা কি দাঁড়িয়ে দেওয়াই বাধ্যতামূলক?
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম 
জুমার দিন গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার খুতবা। ছবি : সংগৃহীত
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার খুতবা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু খুতবা দিতেন না, বরং খুতবার মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান, আমল, নৈতিকতা ও সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। এখন প্রশ্ন হলো- জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) যখন জুমার খুতবা দিতেন, তখন তার চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং চেহারায় দৃঢ়তা ও গুরুত্বের ছাপ ফুটে উঠত। মনে হতো তিনি যেন মুসলমানদের সামনে বড় কোনো বিপদের সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, খুতবা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত ও উপদেশের মাধ্যম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৬৭)

আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (মুসলিম ৮৬১) 

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল ছিল। তাই সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়াই সুন্নত।

তবে ইমাম অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে না পারলে বসে খুতবা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। হজরত ওসমান (রা.) ও হজরত মুআবিয়া (রা.)-এর শেষ বয়সে বসে খুতবা দেওয়ার কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অতএব, ওজরের কারণে ইমাম বসে খুতবা দিলেও জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে। কিন্তু বিনা ওজরে বসে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নতের পরিপন্থি এবং ফকিহদের অনেকে একে মাকরুহ বলেছেন।


খুতবা শোনার বিধান
জুমার খুতবা শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি নসিহত ও উপদেশ। তাই খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা চলাকালে কথা বলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, ‘চুপ করো’, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪, মুসলিম ৮৫১) 

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা কতটা জরুরি। এমনকি অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই মুসল্লিদের উচিত খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, নীরব থাকা এবং ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা।

জুমার খুতবা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এ সময় ইমামের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া। 

সুতরাং সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়াই সুন্নত। তবে অসুস্থতা বা গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সুন্নতের অনুসরণ করাই প্রত্যেক ইমামের কর্তব্য।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   জুমার খুতবা  বাধ্যতামূলক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: