প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত শ্রম মানুষের জীবিকা অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায়। নিজের শ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় করে একজন শ্রমিক পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই শ্রমের যথাযথ মূল্য দেওয়া এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইসলাম শ্রমকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘মানুষের জন্য তা-ই রয়েছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা নাজম: ৩৯)। এই আয়াতের মাধ্যমে মানুষের চেষ্টা ও কর্মের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রম ও প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় ইসলাম বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। কোনো শ্রমিকের কাছ থেকে কাজ আদায় করে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক আটকে রাখা বা চুক্তি অনুযায়ী মজুরি না দেওয়া গুরুতর অন্যায়। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন আমি নিজেই বাদী হব। তাদের একজন হলো, যে কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, অথচ তার মজুরি দেয় না।’ (সহিহ বুখারি: ২২২৭)
শ্রমিকের মজুরি দ্রুত পরিশোধের বিষয়েও হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩)। এ নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়। কাজের শুরুতেই মজুরি ও অন্যান্য শর্ত স্পষ্ট করে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়া নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।
বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবন অনেকটাই দৈনিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের পারিশ্রমিক আটকে গেলে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় নির্দেশনাও।
তবে ইসলাম শুধু মালিকের দায়িত্বের কথাই বলেনি, শ্রমিকের কর্তব্যের প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। শ্রমিককে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইভাবে নিয়োগকর্তাকে শ্রমিকের প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ করতে হবে এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামের শিক্ষা হলো, শ্রমের মর্যাদা দিতে হবে এবং শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেই কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুস্থ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সময়ের আলো/জেডি