প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপে সরকার। ছবি : সংগৃহীতসরকারি চাকরিজীবীদের বহু প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে সরকার। সব ধরনের প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মাত্রই নতুন পে স্কেলের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সায় মিললেই বিলম্ব না করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে মাঠপর্যায়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিভ্রান্তি থাকলেও সরকার নির্ধারিত আইনি ও আর্থিক প্রক্রিয়ার পথ ধরেই ইতিবাচকভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারি কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলের হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরে এসব আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। আইএমএফের ঋণ সহায়তার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণ পৃথক। ফলে বহিরাগত কোনো আর্থিক শর্ত পে স্কেল কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।
বেতন কাঠামো নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত নানা মুখরোচক ও ভিন্নধর্মী সংবাদের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেতন স্কেলের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ঘন ঘন বা প্রতিদিন মন্তব্য করা সমীচীন নয়। গণমাধ্যমগুলো তাদের মতো করে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ পরিবেশন করছে, এতে আমলাতন্ত্র ও কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এ কারণে সমস্ত আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলেই সরকার একবারে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে কথা বলবে।
মূলত, দেশে চলমান সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বাস্তবসম্মত ও নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন এই স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনে কাজের গতিশীলতা ও কর্মোদ্দীপনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও অনুমোদনের পর খুব দ্রুতই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অর্থ মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডআই