তীব্র গরমে বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ১৮০ কোটি ডলার : বিশ্বব্যাংক

সময়ের আলো ডেস্ক

অর্থনীতি

অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি

2026-07-30T14:30:56+00:00
2026-07-30T14:33:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
তীব্র গরমে বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ১৮০ কোটি ডলার : বিশ্বব্যাংক
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৩০ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ২:৩৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই)  ‘আ লিভেবল ফিউচার : প্রোটেকটিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়াস সিটিজ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেই উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তীব্র গরমের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে রাজধানী ঢাকায়। অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে প্রতি বছর ঢাকায় প্রায় ৩ শতাংশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এটি বছরে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি হারানোর সমান। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তখন ঢাকার মোট উৎপাদনশীল কর্মসময়ের প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ গরমের কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পও বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরম মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক খাত সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন (৬ হাজার ৫৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে।

তবে সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলেও মনে করছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে সরকার পোশাক কারখানায় বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড গঠন করে। শুরুতে সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে এটি পুরো তৈরি পোশাক খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পরে আইএফসির পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল কর্মসূচি এবং টেকসই ঋণ সহায়তার মাধ্যমে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে পোশাক খাতের আরেকটি সামাজিক সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক নারী শ্রমিক নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছেন না। ফলে তাদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে।


শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াই এখন তীব্র তাপদাহের প্রভাব মোকাবিলা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

অথচ একই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে প্রায় ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস চরম ও বিপজ্জনক গরমের মুখোমুখি হবে। বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেশি।

স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আর শ্রীলঙ্কায় এই সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, তীব্র গরম ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জরুরি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কম আয়ের মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, প্রবীণ এবং শিশুরা।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   তীব্র গরম  বাংলাদেশ  ক্ষতি  কোটি  ডলার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: