জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া আটার একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের কালাই উপজেলা থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, সেখানে ৪০ বস্তার পরিবর্তে ২০ বস্তা আটা রয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি কর্মচারীদের কাছে বাকি আটার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ২০ বস্তা আটাই এসেছে। এতে তাঁর সন্দেহ হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুধবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা